টিন বাতিলের নিয়ম: যেসব শর্তে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়
ডেস্ক রিপোর্ট: মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬
টিন নিয়ে বিপাকে? নির্দিষ্ট শর্তে বাতিলের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনপ্রক্রিয়া
ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট করেও এখন আর প্রয়োজন হচ্ছে না অনেকের। বিভিন্ন প্রয়োজনে টিআইএন নিবন্ধন করলেও পরবর্তী সময়ে সেটি আর ব্যবহার করেন না অনেকে। তবে টিআইএন সক্রিয় থাকায় আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়।
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে তৈরি হতে পারে আইনগত জটিলতাও। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিল করা যায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হয়, তা জানা জরুরি।
ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এই নম্বর ব্যবহার করা হয়। আয়কর নথি শনাক্ত করা, রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন প্রয়োজন হয়।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকে টিআইএন নিবন্ধন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও টিআইএন সক্রিয় থাকায় কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
তবে টিআইএন থাকলেই সবাইকে একই পরিমাণ কর দিতে হয় না। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এবং আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। যেমন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করতে পারেন। ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অন্যটি বাতিলের আবেদন করা যায়।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে। কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলেও নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।
কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তাঁর আবেদনও বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে, কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তাঁর টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।
টিআইএন বাতিলের আবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করতে হয়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা ও বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্রও জমা দিতে হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী টিআইএন সনদ বা নম্বরের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই টিআইএন বাতিলের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ও নিজের কর-সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।