উম্মাহর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিরবতা নাকি সরব থাকা উচিত?
আয়েশা ফারহীন
অনেক দ্বায়ী, স্কলার ও ইনফ্লুয়েন্সার রাজনৈতিক বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরব থাকার মানহাজ গ্রহণ করেন। তাদের যুক্তি—”এটি আমার ফিল্ড নয়, আমি ভুল করতে পারি।” কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু গুরুতর ভুলই নয়; বরং নববী দাওয়ার বিপরীত পথ।
ইসলামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবী মুহাম্মদ (সা.) কেবল আত্মিক ও ইবাদতের বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। মদিনার ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, হুদাইবিয়ার সন্ধি, খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনব্যবস্থা—এসবই ইসলাম ও রাজনীতির গভীর সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “এটি আমার ফিল্ড নয়” বলে সম্পূর্ণ নিরব থাকা অনেক ক্ষেত্রে সত্য গোপনের শামিল হতে পারে। কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“আর মানুষের নিকট স্পষ্টরূপে বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না…” (সুরা আল ইমরান: ১৮৮)
সুতরাং, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা না বলা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, যদি কোনো আলেম বা দায়ী রাজনৈতিক বিষয়ে কথা না বলেন, তবে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। কারণ, সত্য উচ্চারণ না করলে অন্যায় আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পায়। নবী (সা.) কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব ছিলেন না। বরং জুলুম, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলার আগে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। এক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ নিরব না থেকে ন্যায়বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লিখক: প্রাবন্ধিক, গবেষক।
অধ্যায়নরত : কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।