অতীত ও দাম্পত্য জীবনের করুণ বাস্তবতা - দিগন্ত জার্নাল

অতীত ও দাম্পত্য জীবনের করুণ বাস্তবতা

দিগন্ত জার্নাল

চৌদ্দ ফেব্রুয়ারির কয়েকদিন আগ থেকেই নানা নামে উদযাপন শুরু হয়—হাগ ডে, কিস ডে ইত্যাদির নামে পর্দা ফাটানোর এক উৎসব যেন। মিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন রোমান্টিক খবর ছাপা হয়, যা দেখে অনেকে মজা করে, মিম বানায়। কিন্তু এই মজা করা মানুষগুলোর কেউই চায় না তাদের মা-বোন বা পরিবারের কোনো সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হোক।

এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ছেলে বিয়ের আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করবে—তার ‘ক্লিন পাস্ট’ আছে কি না, সে ‘ভার্জিন’ কি না। কাবিনের ব্যাপারেও সচেতনতা বাড়বে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সত্য লুকিয়ে রাখা হলে সহজেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা যায়। এক পর্যায়ে সমাজের অনেক মেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে, আর তাদের পরিবারও সমাজের কাছে মুখ দেখাতে পারবে না।

দাম্পত্য ও সাংসারিক জীবনের বিশৃঙ্খলার দায় শেষ পর্যন্ত এসব ‘অতীত ওয়ালী’ মেয়েদের ও তাদের পরিবারের ওপরই বর্তাবে। কারণ, ভবিষ্যতে ছেলেরা এসব বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হবে। ছেলেরা যদি সচেতন না হয়, তবে তাদের জীবনই সংকীর্ণ হয়ে যাবে।

আজকের বাস্তবতা হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ সম্পর্কের পরামর্শ চাইলে সবচেয়ে বেশি মন্তব্য আসে মেয়েদের কাছ থেকে। সচেতনতা তৈরির জন্য কোনো মেয়ে অন্য মেয়েদের সতর্ক করতে দেখা যায় না, বরং তারা পরামর্শ দেয় কীভাবে অবৈধ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় বা আরও গভীরে যাওয়া যায়। কিন্তু যখনই কেউ অতীত, ক্লিন পাস্ট, বা ভার্জিনিটি নিয়ে আলোচনা করে, তখনই এই মেয়েরা দ্বীনে ফেরার বয়ান দিতে শুরু করে।

ছেলেরা এখন সচেতন হচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে, যে মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় বিনা শর্তে, ভালোবাসা পাওয়া যায় কাবিন ছাড়া, সেই মেয়েদের ক্ষেত্রে কেন তারা মোহরানা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে?

এসব দিবস উদযাপন বা সারা বছর অনলাইন-অফলাইনে যারা নিজেদের অবাধ জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলে, তারা হয়তো এখনই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এর প্রতিক্রিয়া প্রকট আকার ধারণ করবে। সচেতন ছেলেরা ভবিষ্যতে তাদের অধিকার বড় গলায় দাবি করবে, আর প্রতারণা করে চরিত্র লুকালে পাওনা বুঝিয়ে বিদায় দিতেও পিছপা হবে না।

লেখক: আয়েশা ফারহীন, অধ্যয়নরত, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

an adbox will go here