জুলাই হত্যাকারীদের দায়মুক্তির দুরাশা করে লাভ নেই: চিফ প্রসিকিউটর - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই হত্যাকারীদের দায়মুক্তির দুরাশা করে লাভ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণহত্যা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মাহবুবউল আলম হানিফ, তাজুল ইসলাম, মানবতাবিরোধী অপরাধ, কুষ্টিয়া, বিচার, ইনডেমনিটি

মঙ্গলবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সোমবার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় এবং আগামী ১৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করার আদেশ দিয়েছে।

এ মামলাকে ঘিরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “জুলাই গণহত্যাকারীদের কেউ দায়মুক্তি পাবেন না। ইনডেমনিটি দেওয়া হবে—এমন দুরাশা করে লাভ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “ন্যায়বিচার সব সময় নিজের গতিতে চলে। কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না, এ বিশ্বাস রাখুন।”

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যারা এতদিন বিচার বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারা এখন নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন—বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। “অনেকগুলো মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সঠিক পথে আছি,” যোগ করেন তিনি।

মাহবুবউল আলম হানিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চললেও এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা চালাবে, নয়তো আইনের বিধান অনুযায়ী বিচার চলবে।”

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। হানিফ ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম ও সহকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও বহুজন আহত হন। সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোমবার শেখ হাসিনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে জেরা করা হয়। জেরায় তিনি দাবি করেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন, কোনো প্ররোচনা দেওয়া হয়নি।

এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এ রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলার দুই সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

an adbox will go here

এই বিষয়ে আরো পড়ুন