মেজর সিনহা হত্যার রায় ঘোষণার ১ সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর চায় এক্স-ফোর্সেস
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে তারা দাবি জানিয়েছে, রায় ঘোষণার পর এক সপ্তাহের মধ্যে তা কার্যকর করার।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা নির্মমভাবে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা করলে র্যাব তদন্ত শেষে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল্লাহ খান বলেন, টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কর্মকালীন সময়ে ভয়ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এবং তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’-এর মাধ্যমে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল প্রদীপ কুমার দাশ এবং পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন, ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। মাত্র ৩৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দেশে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।
তিনি জানান, বর্তমানে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টের বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের বেঞ্চে চলমান রয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতের রায় দ্রুত শেষ করে প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সাইফুল্লাহ খান অভিযোগ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে বাধা ও বিলম্বের চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “রায় ঘোষণার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা কার্যকর করতে হবে, অন্যথায় এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে শিশু আছিয়া, পারভেজ, তোফাজ্জলসহ জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করারও দাবি জানানো হয়। সাইফুল্লাহ খান বলেন, “ওসি প্রদীপ কুমার দাশের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই জনগণের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট (অব.) মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মেজর (অব.) মো. রাজীবুল হাসান, উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শাখাওয়াত এবং মুখ্য সংগঠক সৈনিক (অব.) মো. নাইমুল ইসলাম।