পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক - দিগন্ত জার্নাল

পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

বাংলাদেশ, পাকিস্তান সম্পর্ক, জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা, প্রধান উপদেষ্টা মো ইউনূস, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, করাচি-চট্টগ্রাম নৌপথ, ঢাকা-করাচি আকাশপথ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকা ❘ পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. ইউনূসের সঙ্গে পাকিস্তানের যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান (চিফ অব জয়েন্ট স্টাফ কমিটি–CJCSC) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সৌজন্য বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। বৈঠকে উভয় দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃতুল্য সম্পর্ক নতুন দিগন্তে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি, উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করবে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নৌপথ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা দ্রুত পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ঢাকা–করাচি সরাসরি আকাশপথ চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি। তবে ভুয়া তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার আজ বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তথ্য-সাইবার নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহযোগিতা দরকার।”

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

এ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল বলে কূটনৈতিক সূত্র বিশ্লেষণ করছে। আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

an adbox will go here