জুলাই হত্যাকাণ্ড: আইসিসিতে বিচার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউনুস সরকার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
২০১৮ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে ২ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি ঘটে এবং শত শত ব্যক্তি আহত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তদন্ত শুরু করেছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকার এখন আইসিসিতে হত্যাকাণ্ডের বিচার পাঠানোর বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে হত্যার নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহর বলেছেন, তদন্তে আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও ডেটা ডিলিট করার জন্য স্থায়ীভাবে নির্দেশনা ছিল, যা আমরা পুনরুদ্ধার করেছি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আদালতে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করেছি।
শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখন আইসিসির হেগ আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি এটি পাঠানো যায়, তাহলে বিশ্বের সামনে আসবে বাংলাদেশের গণহত্যার ভয়াবহতা। তবে, এই বিষয়ে দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশন টিম বাংলাদেশে ব্যাপক প্রাণহানির তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে এবং বর্তমানে সেই তথ্যগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। আইসিসি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, রোম আইনের অধীনে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালত ১২৫টি দেশের সদস্য, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে এবং এটি জেনোসাইড, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে।