গাজায় ইসরাইলি গণহ’ত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ, রাবাতে লক্ষাধিক মানুষের ঢল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ || ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের গণহ’ত্যা বন্ধ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। লাখো জনতার এই গণআন্দোলনে ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র:
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। মুসলিম, খ্রিস্টান ও শান্তিপ্রিয় ইহুদি সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশে ৩০০-রও বেশি সংগঠন অংশ নেয়। প্যালেস্টাইনিয়ান ইউথ মুভমেন্ট, দ্য পিপলস ফোরাম, জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস ও আনসার কোয়ালিশনের ব্যানারে আয়োজিত মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
তুরস্ক:
রোববার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারাসহ বিভিন্ন শহরে একযোগে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তায় ইসরাইল গাজায় দ’মন-নি’পীড়ন চালাচ্ছে—এই অভিযোগে আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা “জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন চাই”, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক” স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজধানী।
মরক্কো:
সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয় মরক্কোর রাজধানী রাবাতে। গতকাল রোববার সেখানে লক্ষাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন গাজায় সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে। কাসাব্লাঙ্কা থেকে আসা আন্দোলনকারী মোহাম্মদ তৌসি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, “এটা আর কেবল যুদ্ধ নয়, ইসরাইল এখন গাজাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই তাণ্ডবে প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
জার্মানি:
বার্লিনেও শত শত মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন। ‘১৮ হাজার শিশু হত্যা, ২০০ সাংবাদিক নিহত’—এই মর্মস্পর্শী বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ডে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো হয়। নেতানিয়াহুর সরকারকে ‘গণহ’ত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলে ঢুকে হামলা চালায় এবং ১২০০ জনকে হত্যা করে, ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই গাজায় টানা অভিযানে নামে আইডিএফ। ১৫ মাসের অভিযানে বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও ১৮ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফার সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। গত ১৫ দিনে এতে নিহত হয়েছেন ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইল জানিয়ে দিয়েছে—জিম্মিদের মুক্তি ও হামাসকে দুর্বল না করা পর্যন্ত তারা অভিযান বন্ধ করবে না। ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহ’ত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে।