কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হা’ম’লা, নিহত অন্তত ২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ | ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম হিল স্টেশনের বৈসারান তৃণভূমিতে ভ’য়া’বহ স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। মঙ্গলবার দুপুরে বাইসারান ভ্যালিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যাৎক্ষণে পুরো ভারতজুড়ে নেমে আসে স্তব্ধতা।
ঘটনার পর থেকে পেহেলগামের বৈসারান তৃণভূমিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক যোগিতা লিমায়ে জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে আটকে পড়েছেন এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কোনো হাসপাতালেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে তেমন বাধা দেওয়া হয়নি।
এই হা’ম’লার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সূত্র ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক স’ন্ত্রা’সী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবা’র ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) এই হা’ম’লার পেছনে থাকতে পারে।
২০১৯ সালে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্বশাসনের অবসান ঘটায় বিজেপি সরকার। এরপর থেকেই টিআরএফ অনলাইনে প্র’চা’রণা ও উ’স’কানি চালাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সক্রিয় স’ন্ত্রা’সী সংগঠনে রূপ নেয়। ২০২৩ সালে ভারত সরকার টিআরএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে স’ন্ত্রা’সী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
টিআরএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা কাশ্মীরের তরুণদের উ’স’কে দিয়ে জ’ঙ্গি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করে, সামাজিক মাধ্যমে উ’স’কানিমূলক বার্তা ছড়ায় এবং অস্ত্র চোরাচালানের সাথেও যুক্ত।
এ ঘটনায় ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পেহেলগাম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসলেও তদন্ত জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গো’পন সূত্রে জানা গেছে।