ভারত সরকারের কড়া পাঁচ সিদ্ধান্তের জবাবে বৈঠকে বসছে ইসলামাবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৫ | জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর ‘কাউকে ছাড় না দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও পাকিস্তান তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে আগেভাগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারপরও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার।
ভারতের ঘোষিত পদক্ষেপগুলো হলো:
১. সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত:
সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তকে। পাকিস্তানের ঝিলম, চেনাব, রবি, বিয়াস ও সাতলুজ নদীর প্রবাহ সিন্ধু নদের সঙ্গে যুক্ত। এই চুক্তি স্থগিত হওয়ায় পাকিস্তানের বিশাল অঞ্চল পানির সংকটে পড়তে পারে। ১৯৬০ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির এমন স্থগিতাদেশকে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২. আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ:
ভারতের পাঞ্জাব ও পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মধ্যে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি সীমান্ত দিয়ে ভারতে এসেছেন, তাদের ১ মে’র মধ্যে ফিরে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
৩. ভিসা বাতিল ও পাকিস্তানিদের বহিষ্কার:
‘সার্ক ভিসা এক্সেম্পশন স্কিম’-এর আওতায় পাকিস্তানি নাগরিকদের দেওয়া সব ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।
৪. প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার:
নয়াদিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনে থাকা সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে দিল্লি।
৫. হাইকমিশনে কর্মীসংখ্যা হ্রাস:
ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনে কর্মরত সদস্যদের সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা ১ মে ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া:
ভারতের এসব পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। দ্য ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
রেডিও পাকিস্তান বলেছে, এই বৈঠকে ‘পহেলগাম ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের’ পর ভারতের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ এবং অভ্যন্তরীণ-বহিরাগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
এছাড়া জিও নিউজ–এর এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ভারতের এই পদক্ষেপগুলোকে ‘অনুপযুক্ত’ এবং উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।