সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে হানি ট্র্যাপ: টার্গেট প্রতিষ্ঠিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা - দিগন্ত জার্নাল

সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে হানি ট্র্যাপ: টার্গেট প্রতিষ্ঠিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করে নিখুঁত ফাঁদ পেতে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও ধনাঢ্যদের লক্ষ্য করে সক্রিয় রয়েছে দেশি-বিদেশি হানি ট্র্যাপ চক্র। অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই পরিচালিত এসব চক্র দিনের পর দিন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, চক্রের তরুণীরা প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। এরপর অনলাইনে ভিডিও কলে খোলামেলা আলাপচারিতার সময় ভিডিও রেকর্ড করে জিম্মি করা হয়। অনেক সময় রুম ডেটের নামে ডেকে এনে সরাসরি আটকে রেখে অর্থ আদায় করা হয়। সূত্র বলছে, ভিডিও কলে নগ্ন অবস্থায় কথা বলার সময় রেকর্ড করে দেশের বাইরে অবস্থানরত সদস্যরা ব্ল্যাকমেইল করে। টার্গেট ব্যক্তির পরিচিতজনদেরও ফেসবুকে যুক্ত করে পরে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে চক্রটি। বাংলাদেশি সদস্যরা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এসব টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক লজ্জার ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পান না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি এ ফাঁদে পড়ছেন। ফেসবুক, ইমো, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এসব চক্র তাদের শিকার খুঁজছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে মাসে গড়ে ৩০টি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ছে।

সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার অভাবের কারণেই সাধারণ মানুষ এ ধরনের জিম্মি পরিস্থিতিতে পড়ছেন। শুধু আইন প্রয়োগ করে নয়, প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়েই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এ চক্রের টার্গেট। তারা ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের ফোন নম্বর দিয়ে বিকাশ ও নগদ একাউন্ট খুলে টাকা আদায় করছে, ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতার বিকল্প নেই। প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতাই চক্রের মূল হাতিয়ার।

ভুক্তভোগী ঢাকার দোহারের সোহেল মৃধা জানান, ইমোতে আঁখি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। ভিডিও কলে খোলামেলা আলাপচারিতা করার পর তাকে চার লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। বরিশালের এক ভুক্তভোগীও ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে জিম্মি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর মিরপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, নেপালি এক মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয় এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই লজ্জা ও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে মামলা করতে চান না। ফলে চক্রগুলো বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তায় সচেতনতা না বাড়ালে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।

an adbox will go here