ঐতিহ্যের প্রতীক আহসান মঞ্জিলে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী - দিগন্ত জার্নাল

ঐতিহ্যের প্রতীক আহসান মঞ্জিলে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী

প্রতিবেদক: ফারজানা রুবি

শুক্রবার, (১৬ মে ২০২৫) পুরান ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য ইতিহাস—আহসান মঞ্জিল। প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বে ভরপুর এই নবাব প্রাসাদ আজ একটি জনপ্রিয় জাদুঘরে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক ছুটে আসছেন এই জাদুঘরে, বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখতে ও জানার জন্য।

১৮৫৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে যেটি পূর্ণতা পায়, সেই আহসান মঞ্জিল একসময় ছিল নবাবদের জমিদারি কার্যালয়। এখান থেকেই গৃহীত হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে রয়েছে মুসলিম লীগের গঠনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা। বর্তমানে এই প্রাসাদে রয়েছে ৩৭টি গ্যালারি, যেখানে সংরক্ষিত আছে নবাবি আমলের নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন—ফার্নিচার, পোশাক, তৈজসপত্র, চিত্রকর্ম ও স্থাপত্যসামগ্রী। প্রতিটি গ্যালারিতে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা চমক।

জাদুঘরের ইনচার্জ দিবাকর সিকদার জানান, দেশে জাদুঘরগুলোর মধ্যে আয় ও দর্শনার্থীর দিক থেকে আহসান মঞ্জিল অন্যতম। প্রতিমাসে প্রায় ৪০-৫০ হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, যার মধ্যে হাজারো বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টিকিট বিক্রি হয় প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার। এই জাদুঘর শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।

পর্যটকদের মতামতেও ফুটে উঠেছে এই স্থানটির আবেদন। সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী আয়েশা সুলতানা অনি বলেন, “আহসান মঞ্জিলের মতো একটি ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশ করে অতীতকে স্পর্শ করার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।” যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটক পিটার বলেন, “আমি বিশ্বের অনেক জাদুঘরে গিয়েছি, কিন্তু আহসান মঞ্জিলের স্থাপত্য ও ইতিহাস মুগ্ধ করেছে।”

যদিও স্থানীয়ভাবে যানজট ও কিছু রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তারপরও দর্শনার্থীরা একমত—আহসান মঞ্জিল দেখতে না গেলে ঢাকা ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের জন্য পরিষেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও আশাবাদী, এ স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।

আহসান মঞ্জিল শুধু একটি জাদুঘর নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল। পরিবারের সঙ্গে কিংবা একাকী, ইতিহাসপ্রেমী যে কেউই একবার ঘুরে যেতে পারেন নবাবদের এই প্রাসাদে। সময়ের পৃষ্ঠায় আঁকা অতীতের গৌরব ছুঁয়ে দেখার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে!

an adbox will go here