পাকিস্তানকে সমর্থনের জেরে তুরস্কের পণ্য বয়কট শুরু ভারতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মঙ্গলবার, (২০ মে ২০২৫) পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের সাম্প্রতিক সমর্থনের জেরে তুরস্কে উৎপাদিত পণ্য বয়কট করছে ভারত। নয়াদিল্লির মুদি দোকানি থেকে শুরু করে বড় বড় খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত এই বয়কটে যুক্ত হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশন (এআইসিপিডিএফ) জানিয়েছে, তারা তুরস্কের চকলেট, কফি, ওয়েফার, জ্যাম, বিস্কুট ও প্রসাধনীসহ সব পণ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য এবং সম্পূর্ণরূপে বয়কট করেছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারতের পাল্টা হামলা এবং এরপর তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ফ্লিপকার্টের অধীনস্ত মিন্ত্রা এবং রিলায়েন্সের ফ্যাশন ওয়েবসাইট এজিওসহ একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন্ডিওল, এলসি ওয়াইকিকি, কোটন ও মাভি’র মতো তুর্কি পোশাক ব্র্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই কোম্পানিগুলোর কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে সূত্র বলছে, মিন্ত্রা ‘জাতীয় স্বার্থে’ এসব ব্র্যান্ড সরিয়েছে।
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কোম্পানিকে তুরস্কের পণ্য বয়কটের নির্দেশ দেয়নি। তবে, এআইসিপিডিএফ জানিয়েছে, তাদের পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য পণ্যের ক্ষতি হবে। তুরস্ক থেকে ভারতের বার্ষিক আমদানির পরিমাণ ২.৭ বিলিয়ন ডলার, যার বেশিরভাগই খনিজ জ্বালানি ও মূল্যবান ধাতু।
তুরস্ক থেকে আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে হিমাচল প্রদেশও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু বলেছেন, তিনি তুরস্ক থেকে আপেল আমদানি নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবেন। ২০২৪ সালে এ আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া ফ্লিপকার্ট জানিয়েছে, তারা ‘ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে’ তুরস্কে ফ্লাইট, হোটেল এবং ভ্রমণ প্যাকেজ বুকিং স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পর্যটকেরা তুরস্ক সফর বাতিল করছেন এবং নয়াদিল্লি তুরস্কভিত্তিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা সেলেবির নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেছে।