প্রশ্ন: কাঁকড়া খাওয়ার হুকুম কী?
উত্তর প্রদান করছেন: শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন (দা.বা.), ফিকহ ও ফতোয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ আলেম, ইসলামিক স্কলার ও আলোচক।
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
উত্তর:
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী কাঁকড়া খাওয়া জায়েয নয়। ইসলামে হালাল-হারামের মৌলিক ভিত্তি কুরআন ও সহীহ হাদীস। হানাফী ফিকহ অনুসারে সমুদ্র বা জলজ প্রাণীর মধ্যে শুধুমাত্র মাছ হালাল—এর বাইরে অন্যান্য জলজ প্রাণী যেমন কাঁকড়া, ব্যাঙ, কচ্ছপ, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি হালাল নয়। কারণ, এগুলোকে স্বভাবতই ঘৃণিত ও অপবিত্র (খাবায়েস) ধরণের প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়।
আল কুরআনের দলিল:
وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ
“আর তিনি (আল্লাহ) তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছেন।”
(সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৭)
তাফসীর থেকে:
‘খাবায়েস’ বলা হয় সেইসব বস্তুকে যেগুলো মানুষের স্বাভাবিক রুচিতে অপছন্দনীয়, নোংরা ও ক্ষতিকর মনে হয়।
(দ্রঃ: তাফসীর কাবীর, আযওয়াউল বায়ান)
ফিকহি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:
والضفدع والسرطان والحية ونحوها من الخبائث
অর্থাৎ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, সাপ ইত্যাদি হলো খবায়েসের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো ভক্ষণ করা বৈধ নয়।
(বদায়েউস সানায়ে: ৫/৩৫)
হাদীস দ্বারা প্রমাণ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো এই ধরনের জলজ প্রাণী ভক্ষণ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না; বরং তিনি নিষেধ করেছেন।
أنَّ طَبِيبًا سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ عَنْ ضِفْدَعٍ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ فَنَهَاهُ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ قَتْلِهَا
“একজন চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন যে, ওষুধে ব্যবহারের জন্য ব্যাঙ মারা যাবে কি না। তিনি ﷺ নিষেধ করেন।”
(আবু দাউদ: ৩৮৭১)
যেহেতু কাঁকড়া মাছ নয় এবং মানুষ সাধারণত এটিকে অপছন্দ করে, সেহেতু হানাফী মাযহাব অনুযায়ী এটি খাওয়া নাজায়েয ও হারাম।
উপসংহার:
কাঁকড়া মাছের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এটি ঘৃণিত প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের জন্য কাঁকড়া খাওয়া অনুমোদিত নয়।
والله أعلم بالصواب
– শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন (দা.বা.)