১১ সপ্তাহ পর গাজায় ঢুকল ত্রাণ, জাতিসংঘ বলছে—এটা ‘একফোঁটা পানির’ মতো - দিগন্ত জার্নাল

১১ সপ্তাহ পর গাজায় ঢুকল ত্রাণ, জাতিসংঘ বলছে—এটা ‘একফোঁটা পানির’ মতো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শুক্রবার, (২৩ মে ২০২৫) টানা ১১ সপ্তাহের অবরোধ শেষে অবশেষে মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে গাজায়। ২২ মে (বুধবার) জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাঠানো ১০৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে। খবর বিবিসির।

গাজার প্রবেশপথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরাইলি সংস্থা ‘কোগাট’ নিশ্চিত করেছে, তারা গাজায় ত্রাণ পাঠাতে সহায়তা করছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা চায় না এই ত্রাণ হামাসের হাতে পড়ুক। ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ আনলেও হামাস এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তা অস্বীকার করেছে।

তবে জাতিসংঘ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি—এই ত্রাণ প্রকৃতপক্ষে অনাহারক্লিষ্ট গাজাবাসীদের হাতে পৌঁছেছে কি না।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) কর্মকর্তা আঁতোয়ান রেনার্ড বলেন, “প্রতিদিন অন্তত ১০০টি ট্রাক না গেলে গাজাবাসীদের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদাও পূরণ সম্ভব নয়।”
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা জেরেমি বোয়েন মন্তব্য করেছেন, “এই ১০৭টি ট্রাক দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য একফোঁটা পানির মতো।”

যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করত। সেখানে থাকত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও শিশু খাদ্য। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি হামলা শুরুর পর এই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় শূন্যে। চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল সরাসরি ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, ফলে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে গাজার ২১ লাখ মানুষ।

জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন জানিয়েছে, আগামী মাসে গাজায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। অপুষ্টি, শিশু মৃত্যু ও ক্ষুধামৃত্যুর ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মানবিক সংস্থাগুলোর ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গাজায় ‘সম্পূর্ণ মানবিক বিপর্যয়’ অবধারিত।

an adbox will go here