গাজাবাসীর প্রতি দয়া দেখানোর আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের - দিগন্ত জার্নাল

গাজাবাসীর প্রতি দয়া দেখানোর আহ্বান ডব্লিউএইচও প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শনিবার, (২৪ মে ২০২৫) গাজার মানবিক বিপর্যয় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস ইসরাইলের প্রতি গাজাবাসীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচওর বার্ষিক অধিবেশনে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ ইসরাইলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে, এর কোনো টেকসই সমাধান নেই। নিজেদের স্বার্থেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।”

টেড্রোস খাদ্য এবং চিকিৎসাসামগ্রীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে একে ‘নিকৃষ্ট’ ও ‘অন্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শুধু একটি রাজনৈতিক সমাধানই প্রকৃত শান্তি বয়ে আনতে পারে। আমি ইসরাইলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, দয়া দেখান—এটি ইসরাইলিদের জন্য, ফিলিস্তিনিদের জন্য এবং মানবতার জন্যই মঙ্গলজনক।”

জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের মাত্রা বাড়ছে। গাজার প্রায় ৮১ শতাংশ ভূখণ্ড এখন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আদেশের আওতায় রয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের ভাষ্য মতে, গোটা শহরকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

‘গিদিয়নের রথ’ নামক নতুন সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি। আলজাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৮২২ জন নিহত ও ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮২ জন আহত হয়েছেন।

গাজায় বর্তমানে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় গাজার চারটি প্রধান হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে কেবল ১৯টি সীমিত আকারে চালু রয়েছে। তবে এই হাসপাতালগুলোতে কর্মীরা জীবনবিপন্ন পরিবেশে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার ৯৪ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উত্তর গাজার লাখো বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

এদিকে টানা ১১ সপ্তাহের অবরোধের পর কিছুটা স্বস্তি এনে শুক্রবার প্রায় ১৩০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ত্রাণও প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। গাজার ভবিষ্যৎ এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দুলছে, যেখানে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সমাজের আরও জোরালো হস্তক্ষেপ ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির বাস্তব পদক্ষেপ।

an adbox will go here