চিংড়ি মাছ খাওয়া নিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি—শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন
শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন: সভাপতি, মাদানি কমপ্লেক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাঝে মাঝে বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন করেন: চিংড়ি মাছ খাওয়া কি শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহ বা নিষিদ্ধ?
আমার স্পষ্ট বক্তব্য হলো—চিংড়ি মাছ খাওয়া হালাল ও বৈধ। এতে কোনো বিধি-নিষেধ নেই।
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নদী ও সমুদ্রের প্রাণীদের মধ্যে শুধুমাত্র “মাছ” খাওয়ার অনুমতি রয়েছে। অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। তবে কোনটি মাছ আর কোনটি নয়—তা নির্ধারণে শরিয়ত জেলে ও প্রাণীবিশেষজ্ঞদের অভিমতকে গুরুত্ব দেয়। যেসব প্রাণী তাঁদের মতে “মাছ” হিসেবে গণ্য হয়, সেগুলোই শরিয়তের দৃষ্টিতে মাছ।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে চিংড়ি মাছের অন্তর্ভুক্ত, কেননা জেলে ও বিশেষজ্ঞদের মতে চিংড়ি হচ্ছে একপ্রকার মাছ। পক্ষান্তরে কাঁকড়া, স্কুইড, অক্টোপাশ প্রভৃতি প্রাণী মাছ নয়, বরং সেগুলো সামুদ্রিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। তাই সেগুলো খাওয়া বৈধ নয়।
বিশিষ্ট হানাফি আলেম মুফতী তাকি উসমানী দা.বা.-সহ বহু আকাবির উলামায়ে কেরাম চিংড়িকে মাছ হিসেবেই গ্রহণ করেছেন এবং স্পষ্টভাবে একে জায়েজ বলেছেন।
কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে—
ولا يأكل من حيوان الماء إلا السمك
অর্থ: “পানির প্রাণীদের মধ্যে কেবল মাছই খাওয়া বৈধ।”
(হিদায়া, কিতাবুজ্-জবায়েহ ৪/৪৪২)
ولا يحل حيوان مائى الا السمك
অর্থ: “পানির প্রাণীদের মধ্যে কেবল মাছই হালাল।”
(রদ্দুল মুহতার ৯/৪৪১)
সুতরাং চিংড়ি মাছ খাওয়া কোনোভাবেই মাকরুহ নয় বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে তা হালাল ও বৈধ। এতে সংশয়ের অবকাশ নেই।
والله أعلم بالصواب
—শায়েখ মুফতি হাফিজুদ্দীন
সভাপতি, মাদানি কমপ্লেক্স