গাজায় যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাবে সম্মত হামাস, প্রত্যাখ্যান ইসরাইলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৫
গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। সোমবার (২৬ মে) হামাসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দেওয়া নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ হবে ৭০ দিন। এই সময়ের মধ্যে হামাস দুই ধাপে ১০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং ইসরাইলি বাহিনী গাজার কিছু এলাকা থেকে আংশিকভাবে সরে যাবে। পাশাপাশি ইসরাইলি কারাগারে দীর্ঘদিন আটক বহু ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হবে।
ইসরাইলের প্রত্যাখ্যান ও প্রতিক্রিয়া
যদিও হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে, তেল আবিবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, “কোনো দায়িত্বশীল সরকার এমন প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “এটি মূলত স্টিভ উইটকফের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ নিজেও বলেন, “ইসরাইল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে একটি মধ্যবর্তী পর্যায়ের চুক্তি চায়। তবে আমার মতে, বর্তমান প্রস্তাব হামাসের গ্রহণ করা উচিত। এটি একটি সম্ভাবনার জানালা খুলে দিচ্ছে।”
সংঘাতের পটভূমি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলের ভেতরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত ১৮ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী (আইডিএফ)।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরাইল ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মানবিক পরিস্থিতি ও হতাহতের সংখ্যা
দ্বিতীয় দফার অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,৮২২ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১১,০০০ জন। হামাসের হাতে থাকা ২৫১ জিম্মির মধ্যে অন্তত ৩৫ জন এখনও জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করার চেষ্টা করছে।