জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো, গাজায় নিহত আরও ১০০ - দিগন্ত জার্নাল

জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো, গাজায় নিহত আরও ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

(৫ জুন ২০২৫) গাজায় তাৎক্ষণিক, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দিয়েছে। প্রস্তাবটির পক্ষে পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশ ভোট দিলেও একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় তা বাতিল হয়ে যায়।

এই ভেটোর ফলে অবরুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই দখলদার ইসরাইলের টানা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

মার্কিন যুক্তিতে ক্ষুব্ধ বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি ‘অসংযুক্ত’, তাই প্রস্তাবটি শুরু থেকেই অগ্রহণযোগ্য।
তবে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেছেন, “ইসরাইল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সব রকম সীমা লঙ্ঘন করছে। কিন্তু একটি দেশের ভেটো সেই দায় থেকে ইসরাইলকে রক্ষা করে চলেছে।”

আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, “এই ভেটো যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।”

রক্তাক্ত গাজা: ‘মানবিক সহায়তা নয়, এটি একটি ফাঁদ’
গাজার দেইর আল-বালাহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় বুধবার অন্তত ৯৭ জন নিহত এবং ৪৪০ জনের বেশি আহত হন।
ইসরাইলি বাহিনী মার্কিন-সমর্থিত সহায়তা কেন্দ্রগুলোর আশপাশে থাকা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত এমন গুলিতে শতাধিক মানুষ নিহত ও শত শত আহত হয়েছে।

একজন নিহত নারী রীম আল-আখরাসের সন্তান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আম্মু আমাদের জন্য খাবার আনতে গিয়েছিলেন, আর তাতেই তার মৃত্যু হলো।”

জাতিসংঘের আর্তি ও প্রতিবন্ধকতা
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা আছে, সামর্থ্য আছে, অভিজ্ঞতা আছে—আমাদের কাজ করতে দিন।” তিনি সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং সব রকম বাধা দূর করে সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ইসরাইল দাবি করে, হামাস সহায়তা চুরি করছে, যদিও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, তারা এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি।

শিশুদের ভয়াবহ দুর্দশা
ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানান, “আমি এমন কিশোরদের দেখেছি যাদের হাড় বেরিয়ে এসেছে, যারা খাবারের জন্য কাঁদছে।” গাজায় এখন শিশুদের দুর্ভোগ মানবতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

হতাহতের সংখ্যা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
ইসরাইলি দাবি অনুযায়ী, হামাসের হাতে এখনো ৫৮ জন ইসরাইলি বন্দি রয়েছে। এই জিম্মিদের মুক্তি এবং হামাসকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যেই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হয়।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ পর্যন্ত ৫৪,৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিহতের সংখ্যা ৬১,৭০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানায়।

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে পড়েও যুক্তরাষ্ট্রের একক অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা ও বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। গাজায় মানবিক বিপর্যয় যতই প্রকট হোক না কেন, যুদ্ধ থামানোর পথ এখনো সুদূর।

an adbox will go here