ইরানে মার্কিন ম্যারাথন হামলার বিস্তারিত দিল পেন্টাগন, কার্যকারিতা নিয়ে ধোঁয়াশা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ – ২৭ জুন ২০২৫
ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ‘ম্যারাথন বোমা হামলা’ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। তবে এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে প্রশ্নে এখনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ব্রিফিং হওয়ার কথা ছিল ‘আকর্ষণীয় ও অকাট্য’। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইতিহাসের সবচেয়ে গোপন এবং জটিল সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, সুপার কম্পিউটার ও অভিজ্ঞ অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরিকল্পিত এই হামলা ৩৭ ঘণ্টাব্যাপী চলে। এতে অংশ নেয় বিমানবাহিনীর সদস্য ও মিসৌরি এয়ার ন্যাশনাল গার্ডসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সেনারা। তিনি জানান, হামলার কয়েকদিন আগেই ইরান ফোরদো স্থাপনাকে পাহাড়ের আরও গভীরে সরানোর চেষ্টা করছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগেই গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে প্রস্তুতি নেয়। এই অভিযানে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়, যা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কীভাবে বোমাগুলো টার্গেট বাঙ্কারে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়েছে।তবে হামলায় প্রকৃত ক্ষতি কতটা হয়েছে, সে বিষয়ে জেনারেল কেইন ও হেগসেথ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা দায় চাপিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, বরং কিছুটা সময় পিছিয়েছে। পরে সিআইএ পরিচালক দাবি করেন, স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠনে কয়েক বছর লাগতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “নিশ্চিহ্ন” হয়ে গেছে। কিন্তু হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে তিনি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান—সে প্রশ্নের উত্তর তিনি বা প্রশাসনের কেউ দেননি।