হাসিনার পালানোর দৃশ্য ও যেসব স্মৃতির সাক্ষী হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে - দিগন্ত জার্নাল

হাসিনার পালানোর দৃশ্য ও যেসব স্মৃতির সাক্ষী হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃহস্পতিবার, (৩ জুলাই ২০২৫) গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’, যা বর্তমানে উদ্বোধনের শেষ প্রস্তুতিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র, শহীদদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, চিঠিপত্র, পত্রিকার কাটিং, গুরুত্বপূর্ণ নথি, অডিও-ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র সহ নানান স্মারক স্থান পাবে। এর মধ্যে বিশেষ স্থান পাচ্ছে শেখ হাসিনার পালানোর দৃশ্য—যা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত হচ্ছে।

জাদুঘরটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। যদিও প্রকল্পটির দেখভালের দায়িত্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের, এ বিষয়ে জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে

জাদুঘরের স্থান ও পটভূমি:

মিরপুর রোড সংলগ্ন সাবেক গণভবন, যা একসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ছিল, সেটিকেই রূপান্তর করা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ।

গত বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ বাতিল করা হয়। এর ফলে শেখ হাসিনার পরিবার গণভবনে থাকার আইনগত অধিকার হারায়।

এরপর ৫ সেপ্টেম্বর সরকারের পঞ্চম বৈঠকে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয় এবং ২ নভেম্বর একটি সরকারি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে ধাপে ধাপে গণভবনের পরিবর্তন ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়।

ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ:

গেল বছরের ৫ আগস্ট মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও পালিয়ে যাওয়ার পর, উল্লসিত জনতা গণভবনে প্রবেশ করে। ভাঙচুরের চিহ্নসহ গণভবনের বাস্তব অবস্থা আক্ষরিক অর্থে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সরকারি দফতর থেকে জানানো হয়েছে,

“ওই দিনের ভাঙচুরের痕চিহ্নগুলো আগের মতোই রেখে দেওয়া হচ্ছে—এটাই ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন।”

স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:

জাদুঘরটি গড়ে উঠেছে ১৭.৬৮ একর (প্রায় ৫৩ বিঘা) জমির উপর। ভবনটি মূলত একটি দুইতলা দালান, কর্মচারীদের জন্য কিছু পাকা ও সেমিপাকা ভবনও রয়েছে।

জাদুঘরের চারপাশে রয়েছে লন, পুকুর, খেত ও ফলের বাগান। সবুজে ঘেরা এই জাদুঘর শুধু ইতিহাস জানার জায়গা নয়, এটি নগরবাসীর জন্য মনোরম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠছে।

স্মারক সংগ্রহ অভিযান:

স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আর্কাইভ ও কালেকশন টিম দেশব্যাপী কাজ করছে। কারও কাছে গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক থাকলে তা সেচ্ছায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাষ্য মতে,

“এই জাদুঘর নতুন প্রজন্মের সামনে শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের বিজয়গাথা তুলে ধরবে, এবং দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেবে।”

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি হয়ে উঠছে গণতন্ত্র, বীরত্ব ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক

an adbox will go here