যার নির্দেশে গুলি চালিয়ে উল্লাস করেছিল পুলিশ: চার্জশিটে ভয়াবহ তথ্য - দিগন্ত জার্নাল

যার নির্দেশে গুলি চালিয়ে উল্লাস করেছিল পুলিশ: চার্জশিটে ভয়াবহ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শুক্রবার | ৪ জুলাই ২০২৫ | গত বছরের জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর নি’র্’বি’চা’রে গু’লিচালনার নির্দেশ দেন র’ম’না অঞ্চলের সে’না’নি’বর্তিত অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে (ফরমাল চার্জ) উঠে এসেছে—পুলিশ একের পর এক গু’লি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হ’ত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর উচ্চস্বরে বলেন, “লা’গ’ছে!”, “সে’শ!”, “ম’র’ছে!”, যা ছিল এক নির্মম উল্লাসের বহিঃপ্রকাশ।

চার্জশিট অনুযায়ী, সেদিন পুলিশের গু’লিতে শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। চা’নখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে ছাত্র-জনতা এগোতে চাইলে বেলা আড়াইটার দিকে পূর্বনির্ধারিত অবস্থান থেকে কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম চা’ইনিজ রা’ইফে’ল দিয়ে গু’লিচালনা শুরু করেন।

এদিকে, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল অজয় ঘোষ তার হাতে থাকা চা’ইনিজ রা’ইফে’ল দিয়ে অপ্রয়োজনে গু’লি চালাতে অস্বীকৃতি জানান। তখন অতিরিক্ত উপকমিশনার আখতারুল ইসলাম তাকে শা’রী’রি’কভাবে লা’ঞ্ছ’না করেন এবং হু’ম’কি দেন। এরপর তার কাছ থেকে রা’ইফে’লটি কেড়ে নিয়ে কনস্টেবল সুজন হোসেনকে দেন এবং গু’লির নির্দেশ দেন। সুজন তখন কখনো শুয়ে, কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গু’লিচালিয়ে একের পর এক হ’ত্যা ঘটান।

প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ জানান, কনস্টেবল অজয় ঘোষ এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তিনি প্রকাশ্যে এই অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, শুধু মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিরা নয়—এই গু’লিচালনার পেছনে দায়িত্ব ছিল শীর্ষ পুলিশ প্রশাসনেরও। ডিএমপি কমিশনার হা’বি’বু’র র’হ’মানের নির্দেশেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে এটি বাস্তবায়ন করেন।

এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পলাতক চারজন হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হা’বি’বু’র র’হ’মান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। বাকি চারজন গ্রেফতার হয়ে আছেন—তারা হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

চার্জশিটে আরও উঠে এসেছে, সেদিন মিছিল দমন করতে ব্যবহার করা হয় এপিসি কার, হে’লি’ক’প্টা’র, ড্রো’ন ও বিপুল গু’লাবা’রু’দ, যা কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুপযোগী ছিল না। এই তৎপরতায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির লঙ্ঘন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অভিযোগপত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শে’খ হা’সিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ’সা’দুজ্জা’মান খা’ন কা’মা’লের ‘সু’পি’রি’য়র ক’মা’ন্ড রে’সপ’ন’সি’বি’লিটি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তদন্ত চলমান থাকায় তাদেরকে মামলার প্রত্যক্ষ আসামি করা হয়নি, তবুও পরিকল্পনা, অনুমোদন ও নির্দেশনায় তাদের সম্পৃক্ততার বর্ণনা অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই মামলার চার আসামির অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

an adbox will go here