হালাল-হারামের গুরুত্ব: মুসলিম জীবনে পবিত্র আহারের নির্দেশনা: শায়খ মুফতি হাফীজুদ্দীন
ইসলামি ডেস্ক | দিগন্ত জার্নাল
বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ || ইসলামে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে হালাল ও হারামের পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে হালাল আহার গ্রহণের প্রতি উৎসাহ এবং হারাম বস্তু থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন:
يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا “হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে খাও এবং সৎকর্ম কর।” (সূরা মুমিনুন: ৫১)
এছাড়া আরও বলা হয়েছে:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ “হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে জীবিকারূপে যে উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়েছি তা খাও।” (সূরা বাকারা: ১৭২)
يَأَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَلًا طَيِّبًا “হে মানুষ! পৃথিবীর যা কিছু হালাল ও পবিত্র তা খাও, এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা বাকারা: ১৬৮)
নবী করিম ﷺ বলেছেন:
“مَن أكل طَيِّبًا، وعَمِلَ في سُنَّةٍ، وأَمِنَ الناسُ بوائقَه، دخل الجنة.” “যে ব্যক্তি হালাল আহার করে, সুন্নতের উপর আমল করে এবং লোকেরা তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযি: ২৫২০)
কুরআনে আরও বলা হয়েছে:
وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبائث “যিনি তাদের জন্য উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করেন এবং নিকৃষ্ট বস্তু হারাম করেন।” (সূরা আরাফ: ১৫৭)
হারাম খাদ্য ও পানীয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
কুরআনে নিষিদ্ধ চারটি খাদ্যদ্রব্য হলো:
১. মৃত প্রাণীর গোশত ২. রক্ত ৩. শূকরের গোশত ৪. আল্লাহর নাম ছাড়া যবাইকৃত পশুর গোশত
পবিত্র কুরআনে সরাব তথা মদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্যান্য হারাম পানীয় সম্পর্কে নবীজী ﷺ হাদীসে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। হালাল খাদ্য ও পানীয় শুধু শারীরিক উপকার নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তি ও ইবাদতে তৃপ্তির কারণও বটে।
তথ্যসূত্র:
- তিরমিজি হাদীস: ২৫২০
- সূরা মুমিনুন: ৫১, সূরা বাকারা: ১৬৮, ১৭২
- সূরা আরাফ: ১৫৭
- ফিকহ: আউনুত তিরমিযী ও মাআরেফুল হাদীস
- বি.দ্র: এ লেখাটি শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন দা.বা.-এর প্রকাশিতব্য বই “নবীজীর পানাহার” থেকে সংগৃহীত।