পোশাক খাতে অস্থিরতার অভিযোগ, তদন্তে প্রভাবশালী চক্র ও অর্থায়ন
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক: শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ও অর্থায়নের অভিযোগ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাবি, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মান্নান কচি, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপিসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আন্দোলনে উসকানি দিতে কালোটাকা ব্যবহারের অভিযোগে ১২টি গ্রুপের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাবেক একাধিক সংসদ সদস্যের ব্যাংক হিসাবও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরের কালশী-পূরবী মোড়ে শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের সামনে পুলিশ কনস্টেবল সালমানের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আসামিদের মোবাইল ফোন থেকে ১৬টি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের তথ্য, অডিও বার্তা এবং ছবি উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ডিবির দাবি, এসব গ্রুপে আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতো।
ডিবি বলছে, শিহা ডিজাইন কারখানাটি আগে এসএম মান্নান কচির মালিকানায় ছিল। পরে কাগজে-কলমে তিনি সরে দাঁড়ালেও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই সিন্ডিকেটে সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও আবু হাসান মুহম্মদ তারিকের নামও এসেছে। ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, কচি, ইলিয়াস মোল্লা, তাঁর ভাগনে আলিফ মোল্লাসহ কয়েকজন আন্দোলনে অর্থায়ন ও ইন্ধন দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন জেলা থেকে লোক এনে সহিংসতায় যুক্ত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা হয়েছিল। ৩ নভেম্বর কনস্টেবল সালমানের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিবি। এর আগে ১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিতে কালোটাকা ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে ১২টি গ্রুপের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে এনবিআর। তালিকায় তুসুকা, ওয়েল, নিপা, অ্যাক্সিস নিটওয়্যার্স, স্ট্যান্ডার্ড, গিভেন্সি, বেক্সিমকো, সেপাল, এনভয়, রেনেসাঁ, হামিদ ও ফেবিয়ান গ্রুপের নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।
তবে তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগ এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথির ভিত্তিতে প্রকাশ করা জরুরি। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন; তাই এগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।