নারী ক্ষমতায়নের মোহ এবং বাস্তবতা
✍ আয়েশা ফারহীন
অধ্যয়নরত, কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
সময়ের সঙ্গে নারীদের ক্ষমতায়ন একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্তমান সমাজে কিছু নারী আছেন, যারা টপ কর্পোরেট পজিশনে আছেন, সুন্দর সংসার পরিচালনা করছেন এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মেইনটেইন করতে পারছেন। তারা সমাজে “নারী ক্ষমতায়নের আইকন” হিসেবে পরিচিত। এই ধরনের গল্প দেখে অনেক মধ্যবিত্ত নারীও অনুপ্রাণিত হন এবং তাদের মতো হতে চান।
কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব নারীর অবস্থান সম্ভব হয়েছে পারিবারিক ইনহেরিটেন্সের মাধ্যমে, নয়তো জীবনসঙ্গীর শক্তিশালী ব্যাকআপ ও সহায়তার কারণে। এমন উদাহরণও রয়েছে যেখানে একজন নারী তার স্বামীর দামি গাড়িতে চড়ে একটি মধ্যম মানের চাকরিতে যান, যা তার কাছে কেবলই শখের কাজ। অথচ সেই চাকরিকে “স্বাধীনতা” এবং “ক্ষমতায়ন” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই চিত্রটি আরও চটকদার করে উপস্থাপন করা হয়। সাজগোজ করা একজন নারী বিলাসবহুল গাড়ি থেকে নেমে অফিসে যাচ্ছেন—এমন দৃশ্য ভিডিও করে চটকদার মিউজিক যোগ করে যখন প্রচার করা হয়, তখন তা অনেকের কাছে “নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক” বলে মনে হয়। অথচ বাস্তবতা হলো, সত্যিকারের পরিশ্রম করা নারীদের গল্প খুব কমই প্রচারিত হয়।
সংসারের ভার বহন করতে চাকরিতে যাওয়া নারীদের চিত্র একদমই আলাদা। তাদের চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, সংসারের চিন্তা আর নানারকম সামাজিক চাপ তাদের জীবন কঠিন করে তোলে। অথচ এদের কথা কেউ বলে না। ক্ষমতায়নের নাম করে শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির নারীদের সাফল্যের গল্পই সামনে আনা হয়।
নারী ক্ষমতায়ন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেটি তখনই প্রকৃত অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব পরিস্থিতি ও সামগ্রিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অন্যথায় এটি একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা হয়ে দাঁড়ায়, যা বাস্তব জীবনের অনেক নারীর জন্য হতাশার কারণ হয়ে ওঠে।
Your consequence is a result of your actions. অর্থাৎ, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই ফলাফল আছে। তাই বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনুশোচনা না করতে হয়।
— দিগন্ত জার্নাল