শহিদ ও আহতদের জন্য ৬৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, সংস্কার কার্যক্রমে জোর - দিগন্ত জার্নাল

শহিদ ও আহতদের জন্য ৬৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ, সংস্কার কার্যক্রমে জোর

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সহায়তা, রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৩৪২ কোটি টাকা এবং আগামী (২০২৫-২৬) অর্থবছরের বাজেটে ৪০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে শহিদ ও আহতদের জন্য মোট ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহতদের ‘জুলাই শহিদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ২৩২.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রতিটি শহিদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা, গুরুতর আহতদের ২ লাখ টাকা এবং আংশিক আহতদের ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে এই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪০৫.২০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যেখানে শহিদ পরিবারগুলো ২০ লাখ টাকা পাবে এবং গুরুতর আহতদের ৩ লাখ টাকা এককালীন সহায়তা ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। আংশিক আহতদের ২ লাখ টাকা এককালীন সহায়তা ও মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। রোজার সময় বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় টাস্কফোর্স অভিযান, গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ মনিটরিং, জেলাভিত্তিক ওয়েবসাইটে নিত্যপণ্যের দাম প্রকাশ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সরকার রাজস্ব আয় বাড়াতে ভূমি উন্নয়ন ও হস্তান্তর কর, মোটরযান কর, সরকারি ইজারা, ভাড়া, ফি, টোল আদায়ে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) নন-এনবিআর কর থেকে ৩,১৩৯ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত আয় ২৮,২৬১ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।

সংস্কার কার্যক্রমের জন্য ১০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, গণমাধ্যম, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও পুলিশ—এই ছয়টি খাত সংস্কারে পৃথক কমিশন গঠন করেছে, যার জন্য বিভিন্ন অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পুনর্নির্মাণে ৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের পর আত্মগোপনে যাওয়া ট্রাফিক পুলিশের বদলে সহায়ক পুলিশ নিয়োগের জন্য ৮.২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কল্যাণে গঠিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ পরিচালনার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া তারুণ্য উৎসব আয়োজনের জন্য ৬.৫৯ কোটি টাকা এবং আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য প্রামাণ্যচিত্র ও প্রকাশনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ডিসিদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও শহিদ পরিবার ও আহতদের সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দেবেন।

an adbox will go here