উত্তরায় দম্পতিকে কুপিয়ে জখম: কিশোর গ্যাংয়ের ৪ জন গ্রেপ্তার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডে প্রকাশ্যে এক দম্পতিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোবারক, রবি রায়, আলফাজ ওরফে শিশির। মামলার প্রধান আসামি আরাফাত ও সাইফ এখনো পলাতক। হামলার শিকার মেহেবুল হাসান ও নাসরিন আকতার ইপ্তি দম্পতি বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা এবং কাজের সুবাদে বাবার বাড়িতে থাকতেন।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতি আমির কমপ্লেক্স থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। পথে একটি কিশোর গ্যাংয়ের দল দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে এলোমেলোভাবে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে চলছিল এবং এক পর্যায়ে একটি যাত্রীবাহী রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে রিকশার যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে কিশোররা উল্টো তাদের মারধর শুরু করে। রিকশায় থাকা চার বছরের শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এসময় মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতি ঘটনাটি দেখে প্রতিবাদ করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মেহেবুলকে মারধর শুরু করে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের মোটরসাইকেল আটকে থানায় খবর দেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের আরও ৮-১০ জন সদস্য রামদা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। দম্পতির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঘটনার রাতে মোবারক ও রবি রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ৩ নম্বর আসামি আলফাজ ওরফে শিশিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী নাসরিন আকতার ইপ্তি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন আরাফাত ও সাইফ। তারা আলফাজ, সাইফ, মধু, শিশিরসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে হামলা চালায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন,
“এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। জড়িত সবাইকে ধরতে অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“ওরা প্রতিদিন বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সন্ধ্যার পর উত্তরা হাই স্কুলের আশপাশের পুরো এলাকা ওদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। পুলিশি নজরদারি না থাকলে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
প্রাণে বেঁচে ফেরা সেই রাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছেন, তারা এখনো চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর ৭ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন রাস্তায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের আড্ডা জমে। তারা বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।