তিস্তা নদীতে পানি সংকট: কৃষকদের চরম সংকট ও জীবন-জীবিকার পরিবর্তন
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির গজলডোবা ব্যারাজে তিস্তা নদীর গেট বন্ধ থাকায়, বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় নদীর পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে তিস্তা নদীর আশপাশের প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির সংকটে পড়েছে। কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে, আর তিস্তা তীরবর্তী এলাকার জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গত এক মাসে তিস্তা ব্যারাজের পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ ব্যবস্থা সংকুচিত হয়েছে। ভারত তিস্তার পানি একতরফাভাবে অন্য নদীতে প্রবাহিত করায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেচের আওতায় থাকা জমির পরিমাণ এখন মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান জানান, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নদীর ৫০% প্রবাহ ভাটিতে পৌঁছাতে না পারলে নদী শুকিয়ে যেতে পারে, আর ভারত তার অংশে পানি ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তিস্তা নদী ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কৃষির উপদেষ্টা রিয়াজ উদ্দিন জানান, তিস্তা ব্যারাজ এলাকার কৃষকরা পানির সংকটে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে ধান চাষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার আশা কম। তিস্তার পানির অভাবে নদী পাড়ের অনেক কৃষক বিপদে পড়েছেন এবং নদীর দুই পাড়ে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে।
এছাড়া, নদী পাড়ের সংস্কৃতি ও নৌকা চালকরা এখন কৃষিকাজে মনোযোগী হয়ে উঠছেন। প্রায় ১০১টি ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে এবং মাছের পরিমাণও অনেক কমে গেছে। কৃষকরা জানান, শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ ব্যবস্থা চালানো অসম্ভব, কারণ পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।