জাতিসংঘের প্রতিবেদন: জুলাই আন্দোলন যে-ভাবে হাসিনার পতনের কারণ হলো - দিগন্ত জার্নাল

জাতিসংঘের প্রতিবেদন: জুলাই আন্দোলন যে-ভাবে হাসিনার পতনের কারণ হলো

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং তা দমনের আওয়ামী লীগ এবং সরকারের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে এবং একপর্যায়ে দেশজুড়ে গণআন্দোলন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। জনরোষের মুখে হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়।

আন্দোলনের শুরু ও বিস্তার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল দাখিল আন্দোলনকারীদের ক্ষুব্ধ করে।

১৮ জুলাই নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে, এতে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধসহ কয়েকজন নিহত হন।

২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটার হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও, ততক্ষণে আন্দোলন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করে।

বিক্ষোভ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

হাসিনা সরকার ২৩ জুলাই দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ দমন-পীড়ন চালায়।

আন্দোলনকারীরা হাসিনা সরকারের পদত্যাগের একক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়।

২৬ জুলাই বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য ঘোষণা করে।

নিরাপত্তা বাহিনী ছয়জন বিশিষ্ট ছাত্রনেতাকে আটক করে এবং তাদের দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করানো হয়, যা জনগণের মধ্যে আরও ক্ষোভের জন্ম দেয়।

শেষ পর্যায়ের সংকট ও সরকার পতন

৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লাখো-লাখো মানুষের গণমিছিল প্রতিহত করতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

সেনাবাহিনী ও বিজিবি অনেকক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়, তবে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা সন্ত্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়।

সেনাবাহিনীর ভেতরেই সরকারের প্রতি আনুগত্য কমতে থাকে। সেনাপ্রধান জানান, তারা আর গুলি চালাতে চান না।

৫ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের কঠোর দমননীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে বিভক্তির ফলে ছাত্র আন্দোলন একপর্যায়ে গণবিপ্লবে রূপ নেয়, যা হাসিনার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে।

an adbox will go here