ইইউ সিরিয়ার ব্যাংকিং, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করবে, পুনর্গঠনে সহায়তা - দিগন্ত জার্নাল

ইইউ সিরিয়ার ব্যাংকিং, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করবে, পুনর্গঠনে সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার পুনর্গঠনে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশটির ব্যাংকিং, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সোমবার থেকে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সিরিয়ার নতুন শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল যে, আসাদ সরকারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। তবে, ইউরোপ এবং অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থি নেতৃত্বের কাছ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক রূপান্তরের যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল।

ইইউ’র আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত

ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে। গত মাসে ইউরোপীয় ব্লক প্রাথমিকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যা সোমবার কার্যকর হবে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সিরিয়ার নতুন সরকার যদি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তবে নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় আরোপ করা হতে পারে।

সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির হারে সিরিয়ার অর্থনীতি ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে যেতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে। আসাদের বিরোধীদের দমন-পীড়নের ফলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং দীর্ঘ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে।

সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা

আসাদের প্রধান মিত্র রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে টিকে থাকা সিরিয়ার সরকার পতনের পর, দেশটিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ইইউ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে ইউরোপীয় ব্লক সিরিয়ার পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে।

an adbox will go here