মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির যে মানচিত্র ইতিহাস গড়তে পারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০০৮ সালে ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে একটি শান্তি চুক্তিতে সই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে। ওলমার্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৯৪ শতাংশের বেশি এবং গাজা উপত্যকার পুরো অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতো।
ওই চুক্তিতে পশ্চিম তীরের মাত্র ৪.৯% ভূমি ইসরাইলের অধীনে থাকত, যেখানে ইহুদি বসতি ছিল। বিনিময়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনকে সমপরিমাণ ভূমি দিত। এছাড়া, পশ্চিম তীর ও গাজার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি সুড়ঙ্গ সড়কের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জেরুজালেম উভয় পক্ষের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত হতো এবং এর পবিত্র স্থানগুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক ট্রাস্টি কমিটির হাতে থাকত, যেখানে ইসরাইল, ফিলিস্তিন, সৌদি আরব, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা থাকতেন।
কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সংকট দেখা দেয়। আব্বাস চুক্তিতে সই করার আগে মানচিত্রের একটি অনুলিপি চেয়েছিলেন, যা ওলমার্ট দিতে রাজি হননি। ফলে, পরবর্তী বৈঠক আর হয়নি।
ওলমার্টের দুর্নীতির অভিযোগ এবং পদত্যাগের ঘোষণা তার অবস্থান দুর্বল করেছিল। একই সময়ে গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সহিংসতা তীব্র হয়। ফলে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০৯ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরে আসেন, যিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী। এরপর থেকে শান্তি প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এখন, ওলমার্টের সেই মানচিত্র এবং শান্তি পরিকল্পনা কেবল ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।