জুলাইয়ে বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়: জাতিসংঘ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
জুলাই মাসে বাংলাদেশে বিক্ষোভকালে নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) কার্যালয় থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত “২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন” শীর্ষক তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জনতার ওপর প্রাণঘাতী গুলি চালিয়েছে, যা সাধারণত সামরিক রাইফেল ও স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ব্যবহার করে করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের মাথা ও শরীর লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে, যেখানে একাধিক বন্দুকধারী একসঙ্গে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “যারা হামলা চালিয়েছে, তারা এবং তাদের কমান্ডাররা লক্ষ্যবস্তুতে থাকা জনতার মধ্যে কিছুসংখ্যক যেন মারা যায়, সে ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রেখেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব হত্যাকাণ্ড আত্মরক্ষা বা অন্যদের রক্ষার জন্য সংঘটিত হয়নি, কারণ হতাহতরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। তারা কোনো ধরনের দাঙ্গা বা সম্পত্তি ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন না, বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছেন।”
ওএইচসিএইচআর জানায়, জুলাই মাসে বিক্ষোভের সময় বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, একটি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত পরিকল্পিত আক্রমণই মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সরকারি নীতি অনুসরণ করেই এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপের অংশ।”
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হত্যা, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের ওপরও নির্যাতন চালিয়েছে।”
ওএইচসিএইচআর আরও জানায়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে সহিংসভাবে দমন করার উদ্দেশ্যে নির্দেশনা দিয়েছিল এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য পরিকল্পিত আক্রমণ সংঘটিত করেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংঘটিত অপরাধ গোপন করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে এবং মিডিয়া, ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে তথ্য প্রকাশে বাধা দিয়েছে।”