গাজার শাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, মিশরের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধ পরবর্তী গাজা শাসন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার বাসিন্দাদের স্থানান্তরের প্রস্তাবের পর। এ পরিস্থিতিতে, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন যে, গাজা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হবে, যা গাজাবাসীদের তাদের ভূমিতে থাকার অধিকার নিশ্চিত করবে।
এ ঘোষণার পর, সিসি বলেন, মিশরের পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমিতে থাকবে এবং গাজার তত্ত্বাবধান করবে ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের একটি কমিটি। গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিস্তিনির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, এবং তিনি ফাতাহ পার্টির বহিষ্কৃত সদস্যদের জন্য ক্ষমার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।
মিশর ৫৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে গাজার ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ৬০,০০০ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের পুনর্নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। এই পরিকল্পনার অধীনে, ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ঘর, বিমানবন্দর, বন্দর, শিল্প এলাকা এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হবে।
আরব সম্মেলনে মিশরের এই পরিকল্পনাটি পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে এবং গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চাওয়া হয়েছে। সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে বিতাড়ন না করার নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং ইসরাইলের মানবিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানায়, আরব নেতাদের ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বার্তা বহন করছে।