আল্লাহর নির্দেশ: হালাল রিজিক গ্রহণ ও তাকওয়ার পথে চলার আহ্বান - দিগন্ত জার্নাল

আল্লাহর নির্দেশ: হালাল রিজিক গ্রহণ ও তাকওয়ার পথে চলার আহ্বান

কোরআনুল কারিম । দিগন্ত জার্নাল

মহান আল্লাহতায়ালা মানুষের জন্য হালাল ও পবিত্র জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র বৈধ ও পবিত্র রিজিক গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন এবং তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে সত্যিকারের সফলতার পথ দেখিয়েছেন। সুরা মায়েদার ৮৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন, তন্মধ্যে হালাল ও পবিত্র বস্তুগুলো আহার কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।” এভাবে আল্লাহ আমাদের পবিত্র জীবনযাপনের আদেশ দিয়েছেন এবং অন্যায়ের পথ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সুরার ১০৫ নম্বর আয়াতে তিনি বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমাদের (সংশোধন করার) দায়িত্ব তোমাদের, যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যদি তোমরা দ্বীনের পথে চল; তোমরা সবাই আল্লাহরই সমীপে প্রত্যাবর্তিত হবে, অতঃপর তোমরা যা কিছু করছিলে সে সম্পর্কে তিনি তোমাদের অবহিত করবেন।”

আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষের পরম সফলতা। তিনি বলেন, “আল্লাহ বলবেনঃ এটি সেই দিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা কাজে আসবে, তারা উদ্যানপ্রাপ্ত হবে, যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট; এটাই হচ্ছে মহাসফলতা। আল্লাহরই জন্য অধিপত্য রয়েছে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল এবং ওই সব কিছুর যা এতদুভয়ের মাঝে বিদ্যমান; আর তিনি সকল বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।” (সুরা মায়েদা: ১১৯-১২০)

জীবন-মৃত্যুর মালিকও একমাত্র আল্লাহ। সুরা আনআমের ২ নম্বর আয়াতে তিনি বলেন, “অথচ তিনি তোমাদের মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের জীবনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন। এ ছাড়া আরও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ তার নিকট নির্ধারিত রয়েছে, কিন্তু এর পরও তোমরা সন্দেহ করে থাক।” মানুষ আল্লাহর দৃষ্টিতে কিছুই গোপন করতে পারে না, তিনি সবকিছুই জানেন। সুরা আনআমের ৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে ওই এক আল্লাহই রয়েছেন, তোমাদের অপ্রকাশ্য ও প্রকাশ্য সব অবস্থাই তিনি জানেন, আর তোমরা যা কিছু কর তাও তিনি পূর্ণরূপে অবগত আছেন।”

এই দুনিয়া অস্থায়ী, আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করবে, তাদের জন্য পরকালের জীবনই শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ বলেন, “এই পার্থিব জীবন খেল-তামাশা ও আমোদপ্রমোদের ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, পরকালের জীবনই হবে তাদের জন্য উৎকৃষ্টতর। তোমরা কি চিন্তাভাবনা করবে না?” (সুরা আনআম: ৩২) সব জ্ঞানের উৎস একমাত্র আল্লাহ, তার জ্ঞান সীমাহীন। “অদৃশ্য জগতের চাবিকাঠি তারই নিকট রয়েছে; তিনি ছাড়া আর কেহই তা জ্ঞাত নয়। পৃথিবীতে ও সমুদ্রের সব কিছুই তিনি অবগত আছেন, তার অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝরে পড়ে না এবং ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারের মধ্যে একটি দানাও পতিত হয় না; সব কিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” (সুরা আনআম: ৫৯-৬০)

নামাজ কায়েম ও আল্লাহভীতির ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। “আর তুমি নিয়মিতভাবে সালাত কায়েম কর এবং সেই রবকে ভয় করে চলো, যার নিকট তোমাদের সবাইকে সমবেত করা হবে। সেই সত্তা আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেন, ‘হাশর হও‘, সেদিন হাশর হয়ে যাবে। তার কথা খুবই যথার্থ বাস্তবানুগ। যেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিন একমাত্র তারই হবে বাদশাহী ও রাজত্ব। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছু তার জ্ঞানায়ত্তে। তিনি হচ্ছেন প্রজ্ঞাময়, সর্ববিদিত।” (সুরা আনআম: ৭২-৭৩)

এছাড়া আল্লাহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের এবাদাত (পূজা-অর্চনা) করে তোমরা তাদের গালাগালি কর না, তা হলে তারা অজ্ঞতাবশত বৈরীভাবে আল্লাহকেই গালাগালি দিতে শুরু করবে। আমি তো এ রূপেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের ‘আমলকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে তাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন তারা কী কী কাজ করেছিল তা তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন।” (সুরা আনআম: ১০৮)

আল্লাহর দেওয়া এই আয়াতগুলো মানুষকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেয়। হালাল রিজিক গ্রহণ, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অবলম্বন, নামাজ কায়েম, আল্লাহর প্রতি ভয় এবং অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল আচরণের শিক্ষা ইসলামের অন্যতম মূলনীতি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন।

an adbox will go here