আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: ৪ মাসেও হয়নি দোষীদের শাস্তি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ৪ মাস পার হয়ে গেলেও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। আবাসিক হলে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের কক্ষে তল্লাশি চালানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় দুই শিক্ষক এবং সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
এরপর ২০ জানুয়ারি ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ জনকে এক সেমিস্টার, ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টার ও ১৫ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি পমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শামীম মাহাফুজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামসুর রহমান সুমন বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনবে। কিন্তু ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।”
অপর শিক্ষার্থী এসএম আশিকুর রহমান জানান, “অপরাধীদের নামে মামলা করার জন্য সাক্ষীর তালিকা তৈরি করছি। দ্রুতই তা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বলেন, “প্রশাসন ব্যস্ত তাদের নিজেদের কাজে, সমন্বয়করা ব্যস্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে। সবাই যেন ভুলে গেছে আবু সাঈদের হত্যার বিচার নিয়ে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “দুজন শিক্ষক এবং সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তিনবার নোটিশ পাঠাব, এরপরও উত্তর না পেলে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “আমরা কাজ করছি। আবু সাঈদ ও তার সহপাঠীদের ওপর হামলাকারীদের শিগগিরই বিচারের আওতায় আনা হবে। সন্ত্রাসীরা কেউই ছাড় পাবে না।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।