কাশ্মীরে দুটি সংগঠন নিষিদ্ধ, ভারতের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের - দিগন্ত জার্নাল

কাশ্মীরে দুটি সংগঠন নিষিদ্ধ, ভারতের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে দুটি পরিচিত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করার পর পাকিস্তান তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ভারতীয় সরকারের এই পদক্ষেপে, কাশ্মীরের স্বাধীনতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

ভারত সরকার সম্প্রতি আল-আহলুল কাশ্মির (এএসি) এবং জম্মু ও কাশ্মীর ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন (জেকেআইএম) নামের দুটি সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। এই দুটি সংগঠনই কাশ্মীরের স্বাধীনতা ও মানুষের মানবাধিকার রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আল-আহলুল কাশ্মির (এএসি) সংগঠনটি মিরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বে চলে, যিনি কাশ্মীরের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতা। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন (জেকেআইএম) সংগঠনটি ২০২২ সালে প্রয়াত মাওলানা মোহাম্মদ আব্বাস আনসারির নেতৃত্বে ছিল।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কাশ্মীর অঞ্চলে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের সংখ্যা বেড়ে ১৬টি হয়ে গেল। পাকিস্তান সরকার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এটিকে কাশ্মীরের জনগণের বিরুদ্ধে ভারতের একটি চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের এ সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে দমন এবং বিরোধী মতাদর্শকে স্তব্ধ করার এক উদাহরণ। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানগুলির পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের প্রতি ভারতীয় সরকারের অবজ্ঞা প্রকাশ করে।

এদিকে, পাকিস্তান আরও দাবি করেছে যে, এএসি এবং জেকেআইএম দুটি সংগঠনই কাশ্মীরের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তান সরকার আরো বলেছে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত কেবল কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনকেই বিপর্যস্ত করবে না, বরং সেখানে বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ বন্ধ করবে।

এই পদক্ষেপের পর, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এক মন্তব্য পাকিস্তান আরও প্রত্যাখ্যান করেছে। জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন যে, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেডকে) পাকিস্তান থেকে ফেরত দেয়া উচিত, যা তিনি ‘অবৈধ পাকিস্তানি দখলে’ বলেছিলেন। পাকিস্তান এর বিরোধিতা করে জানায় যে, কাশ্মীরের অধিকার ও ভবিষ্যত সিদ্ধান্ত কেবল কাশ্মীরের জনগণের হাতে থাকতে হবে, এবং এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও প্রথাকে অগ্রাহ্য করে।

এছাড়া, কাশ্মীরের পরিস্থিতি ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের পর থেকে চরম উত্তেজনায় রয়েছে। কাশ্মীরের জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার দাবি নিয়ে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলে আসছে। কাশ্মীরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলি নিয়মিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং তাদের আন্দোলন থেকে এএসি ও জেকেআইএম অন্যতম প্রধান সংগঠন।

এদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এভাবে রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কাশ্মীরের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পাকিস্তান সরকার ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আরও একটি দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যা কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, যে কাশ্মীরের পরিস্থিতি একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

an adbox will go here