ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শেষ লড়াই: গণশত্রুদের পুনর্বাসন রুখতে প্রস্তুত জাতি! - দিগন্ত জার্নাল

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শেষ লড়াই: গণশত্রুদের পুনর্বাসন রুখতে প্রস্তুত জাতি!

দিগন্ত জার্নাল

৩ আগস্ট ২০২৪, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে (জুলাই বিপ্লব) “জাগ্রত কবি মুহিব খান” তার এক সংগীত প্রকাশ করেন, “রাত পোহালেই জাগবে নতুন বাংলাদেশ”, যা মুহূর্তেই কোটি কোটি নেটিজেনের কাছে পৌঁছে যায়। সংগীতের একাংশে তিনি বলেন, “এই গণশত্রুর যেন আর রয় না লেশ”—এই কথাগুলোই তখনকার সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। আমি এই গণশত্রুর দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রক্তপিপাসু বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ৩ আগস্ট স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গোপনে বাড়িছাড়া হই এবং আত্মগোপনে চলে যাই। আমার অপরাধ ছিল, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার পক্ষ নেওয়া, আওয়ামী লীগের গণহত্যা ও নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গণশত্রু বিরোধী কবিতা লেখা।

একবিংশ শতাব্দীর কবি, চিন্তক, গবেষক, কালের মহাবিপ্লবী জাগ্রত কবি মুহিব খানের সংগীতের প্রতিফলন ঘটে ৫ আগস্ট। সেদিন দিল্লিদাসী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। গণহত্যার ভয়ংকর সিরিজ থেকে বেঁচে যাই আমি এবং আমার মতো হাজারো, লক্ষো প্রতিবাদী মানুষ। কিন্তু এই আওয়ামী লীগ যদি আবার ফিরে আসে, তবে আমি এবং আমার মতো বিগতদিনের প্রতিবাদীদের লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ব, প্রয়োজনে পূর্ণ স্বাধীনতার প্রত্যয়ে শহিদের কাতারে নাম লিখাব, তবুও এই গণশত্রু আওয়ামী লীগ এবং খুনি হাসিনা ও তার লেজুড়দের কামব্যাক করতে দেব না, ইনশাআল্লাহ।

৫ আগস্ট ২০২৪, আমরা পেলাম প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ, নতুন বাংলাদেশ। কিন্তু তখন থেকেই সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামান, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং আরও কিছু ভারতপন্থী ব্যক্তিবর্গের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বোনা শুরু হয়! অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে আওয়ামী লীগের দোসররা ঢুকে পড়ে, জুলাই বিপ্লবকে নতুন ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র শুরু হয়! গণশত্রু, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ইতিহাসের অন্যতম গণহত্যার সংগঠক, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দিনরাত কাজ করতে থাকে! তারা এদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা চায় না; তারা চায়, জাতি যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ভারতের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকুক।

কিন্তু আমরা বিপ্লবীরা চাই না, এই গণশত্রুর দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ফিরে আসুক। এত রক্তের বিনিময়ে, এত মা-বোনের সম্ভ্রমের বদলে, বুকের শিশুর তাজা রক্ত ঢেলে, ভারতের গোলামি থেকে, হাসিনার ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসেছি ৫৩ বছর পর। আমরা আর ফিরে যেতে দেব না।

যারা গণশত্রুদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তারা প্রকৃত অর্থে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা চায় না। এই ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে! প্রয়োজনে আরেকটি বিপ্লব হবে, আমি আমার জীবন বিলিয়ে দেব, কথা দিলাম। আমার মতো হাজারো, লক্ষো, কোটি মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ! তবুও এই গণশত্রুদের ফিরতে দেওয়া হবে না। ওয়াকার, চুপ্পুদের মাধ্যমে হাসিনার পুনর্বাসনের চেষ্টা আমরা ব্যর্থ করে দেব, ইনশাআল্লাহ! জেনারেল ওয়াকার, চুপ্পুসহ অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা হাসিনার দালালদের অপসারণের দাবিতে এবং হাসিনা ও তার দলের বিচারের দাবিতে যার যার অবস্থান থেকে সবাই প্রস্তুত হোন! ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

ইউনুস খান ২১ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার

an adbox will go here