ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা, পরিবেশগত সংকট বাড়ছে
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
২০২৫ সালের ২২ মার্চ, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারে এর স্তর দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামছে, যা দেশে পরিবেশগত সংকট বাড়িয়ে চলেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার না বাড়ালে পানির উত্তোলন অতি ব্যয়বহুল হয়ে যাবে এবং আর্সেনিকসহ অন্যান্য দূষণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উদ্ভিদ ধ্বংসের পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের শহরাঞ্চলে নিত্যব্যবহৃত কাজে, শিল্পে এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া পানি উত্তোলন এবং ব্যবহার হওয়ায় পানির অপচয় হচ্ছে। এর ফলে পানি সংকট তীব্র হয়ে উঠছে।
শুধু ভূগর্ভস্থ পানি নয়, দেশের সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সরবরাহ করা পানি না ফুটিয়ে পান করা যায় না, চট্টগ্রাম শহরের পানি লবণাক্ত, রাজশাহীর পানিতে ময়লা এবং খুলনায় সরবরাহ করা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পানি না ফুটিয়ে পান করা যায় না। এসব পানিতে আর্সেনিক ও লবণাক্ততা রয়েছে, যা ব্যবহারে মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক এসএম মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, “বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার শহরাঞ্চলে নিত্য ব্যবহৃত কাজ এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষিতে বেড়ে গেছে, ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।”
বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনও সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর পানি সংকট আরও বাড়ছে, যেখানে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে জটিল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ বলেছেন, “পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানিকে সুপেয় পানি বলা যায়, তবে সেখানে কোনো ময়লা ঢুকে পড়লে সেটি আর সুপেয় পানি থাকে না।”
পানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের পানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।