ভারতের (RAW)-এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতের এই গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করে। বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে এই সুপারিশের তীব্র নিন্দা জানান এবং USCIRF-কে আন্তর্জাতিকভাবে ‘উদ্বেগজনক সংস্থা’ (Entity of Concern) হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি তোলেন। দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন কমিশন ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তথ্য বিকৃত করেছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি না বললেও, কার্যত এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ (Fake) আখ্যা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে আমেরিকান শিখ নাগরিক হত্যাচেষ্টা ঘটনায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর এক কর্মকর্তা ও ছয়জন কূটনীতিকের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হুমকি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, USCIRF ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “USCIRF একাধিকবার ভারতের বহুত্ববাদী ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তাদের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ভারতীয় মুখপাত্র আরও বলেন, “১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মের অনুসারী শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। কিন্তু USCIRF এই বহুত্ববাদী কাঠামোকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ পক্ষপাতিত্বেরই প্রতিফলন।”
বিশ্লেষকদের মতে, USCIRF-এর এই প্রতিবেদন ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনও RAW-এর বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। তবে এই ধরনের সুপারিশ কূটনৈতিকভাবে কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এদিকে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের ‘একপাক্ষিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং ভারত এগুলোকে গুরুত্ব দেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এই ধরনের প্রতিবেদনকে ‘অযৌক্তিক’ মনে করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে তা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে অনেক শক্তিশালী। এমন একতরফা সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। বরং এটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল মাত্র।”
USCIRF-এর প্রতিবেদন এবং ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করেছে যে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন কিছুটা বাড়তে পারে। তবে ভারতীয় সরকার যে কোনো নিষেধাজ্ঞার সুপারিশকে গুরুত্ব দেবে না এবং তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে, সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে।