জুলাই বিপ্লব: প্রিয়জনের শূন্যতায় বিষাদের ঈদ - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই বিপ্লব: প্রিয়জনের শূন্যতায় বিষাদের ঈদ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় আট মাস পার হলেও শহিদ পরিবারের কান্না থামছে না। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে। তাই শহিদ পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ নেই, শুধু আছে প্রিয়জনের শূন্যতায় বিষাদ। আয়ের উৎস হারিয়ে অনেকে ঈদের বাজারও করতে পারেননি। শহিদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের খোঁজ নেয়নি।

৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন শাহরিয়ার খান আনাস। আনাসের মা সানজিদা খান বলেন, “ও ছিল আমার প্রথম সন্তান, আমার স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়ে। ওর মৃত্যু আমাকে ভেতর থেকে শেষ করে দিয়েছে। ঈদের দিন জন্মানো আমার সন্তান আর কোনো ঈদ দেখবে না—এই শূন্যতা আমাকে কুরে কুরে খায়।”

১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীর নিজ বাসায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আসলাম হোসেন। তার মা মমতাজ বেগম বলেন, “বাসার ভেতরে ঢুকে আমার সন্তানকে গুলি করে মারা হয়েছে। ছেলে ছিল আমার সবকিছু। এখন কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না, ঈদের বাজার করার সামর্থ্যও নেই।” আসলামের বোন শারমিন বলেন, “ভাইয়ের আয়ে আমাদের সংসার চলত, এখন আমাদের উপার্জন নেই।”

অনেক চেষ্টার পর মঙ্গলবার আসলাম হোসেনের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন। তবে পরিবারটি মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

শহিদ জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের আর কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আমাদের খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল।”

শহিদ জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, “জুনায়েদ ছাড়া ইফতার মুখে তুলতে পারি না, ঈদে মার্কেটে যেতেও মন চায় না।” শহিদ ইশমামুল হকের মা শাহেদা বেগম বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানরা কাজ করে সংসার চালাত, এবার ঈদের আগে কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি।”

শহিদ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, শুধু আসলাম, জাহাঙ্গীর, জসিম নয়—জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহিদ পরিবারের অধিকাংশই অবহেলিত। ঈদের আগে অন্তর্বর্তী সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিএনপিসহ কোনো রাজনৈতিক দল তাদের খোঁজ নেয়নি। তাদের এই একাকীত্ব আরও গভীর বিষাদে ডুবিয়ে দিয়েছে ঈদকে।

an adbox will go here