বেক্সিমকো গ্রুপ ও ফকর ব্রাদার্সের অর্থ পাচার নিয়ে চলছে সিআইসি তদন্ত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অন্যতম কর্ণধার সালমান এফ রহমানের বাংলাদেশের বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান ও তার পুত্র শায়ান রহমানের মতো সিলেটের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ফকর ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান ফকর উদ্দিন আলী আহমেদ ও তার ছেলে ফকরুস সালেহিন নাহিয়ান দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে এই অর্থ পাচার সংক্রান্ত তদন্তে সিআইসি (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট) নানা তথ্য উদঘাটন করেছে।
অর্থ পাচার ও বিদেশে বিনিয়োগ
তদন্তে জানা গেছে যে, ফকর ব্রাদার্সের দুই কর্ণধার প্রথমে কয়লা ও পাথর আমদানির আড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টাকা পাচার করেছেন। এর পর তারা সেই টাকার মাধ্যমে দেশটির গোল্ডেন ভিসা গ্রহণ করেছেন এবং পরে জুমেইরাহ ভিলেজ সিটিতে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন। এই প্রকল্পের নাম “সাফায়া ৩২”, যেখানে ৩৩ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করেছে দার আল কারামা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি।
জমি ও সম্পদের গোপন তথ্য
এছাড়াও, ফকর ব্রাদার্সের নামে গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং দামি গাড়ি ক্রয়ের মাধ্যমে তারা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জমি ক্রয় এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভাড়া আয়ের তথ্যও গোপন করা হয়েছে। তাদের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নামে গুলশানে কমার্শিয়াল স্পেস ক্রয়ের সময় প্রকৃত বিনিয়োগের তথ্যও গোপন করা হয়েছে। এ সমস্ত কারণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।
সিআইসি তদন্ত ও প্রতিবেদন
নির্বাচিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ফকর ব্রাদার্সের পিতা-পুত্র দুজনেই বিদেশে একটি ৩৩ তলা বিশিষ্ট টাওয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। এই প্রকল্পের মধ্যে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট, ১, ২, ৩ বেডরুমের ২২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। তবে তারা এই বিনিয়োগের তথ্য আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেননি। সিআইসি এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
মিথ্যা তথ্য ও ছলচাতুরী
ফকর ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠান “সাফায়া ৩২” প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেয়নি এবং তারা শুধু অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তবে সিআইসি কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে বলেছেন যে, এই প্রতিষ্ঠান তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।
কর ফাঁকি ও বৈদেশিক সম্পত্তির গোপন তথ্য
সিআইসি কর্তৃক জারি করা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফকর ব্রাদার্সের করদাতারা বিদেশে থাকা সম্পত্তির ব্যাপারে আয়কর নথিতে কোন তথ্য প্রদান করেননি, যা আয়কর আইনের ২১ ধারার পরিপন্থী। তাদের এই অবহেলিত পরিস্থিতির কারণে জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়কর আইন ও বিদেশি সম্পত্তি
বাংলাদেশের আয়কর আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো বাংলাদেশি করদাতা যদি বিদেশে রক্ষিত সম্পত্তি রিটার্নে প্রদর্শন না করে, তবে সে ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। এছাড়া, এই ধরনের বৈদেশিক সম্পত্তি সম্পর্কিত তদন্তে বিদেশে গিয়েও অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
ফকরুস সালেহিন নাহিয়ান এর বক্তব্য
ফকরুস সালেহিন নাহিয়ান জানিয়েছেন, দুবাইতে নির্মিত “সাফায়া ৩২” প্রকল্পটি একটি ইন্টিলেকচুয়্যাল প্রোপার্টি এবং এতে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন যে, এ প্রকল্পের বিস্তারিত আয়কর আইনে প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে এবং এতে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ অযৌক্তিক।
ফকর ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে সিআইসি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের দায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অনুসন্ধান করা হবে।