ফিলিস্তিনিদের ঈদের মোনাজাতে স্মরণ রাখার উদাত্ত আহ্বান - দিগন্ত জার্নাল

ফিলিস্তিনিদের ঈদের মোনাজাতে স্মরণ রাখার উদাত্ত আহ্বান

দিগন্ত জার্নাল

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের বার্তা বয়ে আনলেও, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের জন্য এ আনন্দ ম্লান। দখলদারদের নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত ফিলিস্তিনের মাটি আজ রক্তে রঞ্জিত। হাজারো শিশুর আর্তনাদ, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া স্বপ্ন—এসব কষ্ট ভুলে ঈদ উদযাপন করা মানবতার জন্য এক কঠিন বাস্তবতা।

কবি বলেন’ “ঈদের জামাত শেষে মোনাজাত বসে ফিলিস্তিনের জন্যে ঝরুক দু’ফোটা চোখের পানি”।

এ বছর ঈদের জামাতে যখন মুসলিমরা সিজদায় মাথা রাখবে, তখন অনেকেই মনে রাখবে গাজায় নিহত সেই শিশুদের, বিধ্বস্ত হাসপাতালের সামনে কাতরানো অসহায় মা-বাবাদের, কিংবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের মিনারের দিকে তাকিয়ে থাকা একাকী ইমামকে। ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনা যেন রক্তাক্ত জনপদের জন্য শান্তির বার্তা হয়ে ওঠে।

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় আমাদের সামষ্টিক বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেখানে অন্যায় চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে, সেখানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ। তবুও, নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া করার শক্তি এখনো আমাদের হাতে আছে। ঈদের মোনাজাতে দু’ফোটা চোখের পানি ঝরুক তাদের জন্য, যারা ঈদের নতুন পোশাকের বদলে কাফনের কাপড় পেয়েছে, যারা ঈদের আনন্দের বদলে শোকে মুহ্যমান হয়েছে।

আজ সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠবে, তখন ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষরা হয়তো কেবল একটা নিরাপদ রাতের স্বপ্ন দেখবে। আমাদের ঈদ তাদের জন্য হোক প্রার্থনার, মানবতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার, এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করার একটি মুহূর্ত। আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে উচ্চারিত হোক—”হে আল্লাহ, ফিলিস্তিনকে রক্ষা করো, তাদের স্বাধীনতা দান করো, আর আমাদেরকে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দাও।”

an adbox will go here