মিয়ানমারে প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল, চলছে উদ্ধার অভিযান - দিগন্ত জার্নাল

মিয়ানমারে প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল, চলছে উদ্ধার অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গেছে, আহত হয়েছেন ৩৪০০ জনের বেশি এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই শতাধিক। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক সরকার সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। মান্দালয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও এক শিশু রয়েছে। চীনা উদ্ধারকারী দল একজনকে থার্মাল কম্বলে মুড়িয়ে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করেছে, ভূমিকম্পের পরও সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রমও জোরদার হয়েছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে। রাশিয়া, ভারত, চীন, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, জাতিসংঘ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ২ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং USAID-এর একটি দল মিয়ানমারে পাঠানো হচ্ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০২৮ জন নিহত হয়েছেন। বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (NUG) দাবি করেছে, মৃতের সংখ্যা ২৪১৮ জনে পৌঁছেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। ভূমিকম্পের পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের কারণে মিয়ানমারের জনগণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। উদ্ধারে নিয়োজিত চীনের দলের প্রধান ইউয়ে শিন বলেছেন, ‘আমরা কতক্ষণ কাজ করব তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা দুর্গত মানুষের জন্য আশার আলো জ্বালাতে পারছি কি না।’

an adbox will go here