ট্রাম্প ও মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫ || যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্কনীতির ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়, যার প্রেক্ষিতে শনিবার (৫ মার্চ) বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন।
জার্মানির বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট, ফ্রান্সের প্যারিস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যেও একই দিনে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘হ্যান্ডস অব’ শিরোনামে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এই প্রতিবাদ সম্পর্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিস্তারিত জানায়।
ওয়াশিংটনে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে শুরু করেন। শহরের কানেটিকাট অ্যাভিনিউ এবং ন্যাশনাল মল এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জড়ো হতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’সহ বিভিন্ন স্লোগানযুক্ত প্ল্যাকার্ড। আয়োজকরা জানান, ন্যাশনাল মল এলাকায় অন্তত ২০ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হওয়ার প্রত্যাশা ছিল।
এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বার্লিনে টেসলার বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ব্যানারে লেখা ছিল— ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘আমাদের নিজের মতো চলতে দাও’, ‘ট্রাম্প, তোমার কর্মকাণ্ডে বিশ্ব বিরক্ত, তুমি চলে যাও’।
বার্লিনে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “ইলন, তোমাকে কেউ ভোট দেয়নি।” তারা মাস্ককে অপসারণের দাবি জানিয়ে সরব হন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্যালেস দে লা রিপাবলিকে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই মার্কিন নাগরিক। অনেকেই ব্যানারে লেখেন— ‘অত্যাচারীকে প্রতিহত করুন’, ‘আইনের শাসন চাই’, ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং পর্তুগালের লিসবনসহ ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি শহরেও ট্রাম্প ও মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের পক্ষে ও কর্তৃত্ববাদী নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে এই প্রতিবাদ বার্তা ছড়িয়ে দেয়।