পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি বাতিল, - দিগন্ত জার্নাল

পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি বাতিল,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ||ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে একসঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় রাজ্যের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ছাত্রদের পড়াবেন কে?
রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শহর—সবখানেই স্কুলগুলোতে শিক্ষকের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সুন্দরবনের ঝড়খালির বিরিঞ্চিবাড়ি সুরেন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অরুসীমা মিত্র বলেন, “নয় জন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে স্কুল চালাতাম। এবার চারজন চলে যাওয়ায় ক্লাস করানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

শুধু একক একটি বিদ্যালয় নয়, এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটছে হাজার হাজার স্কুলে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক স্থানে এগিয়ে এলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অনিশ্চিত।

যোগ্য-অযোগ্য সবাই বাদ
২০১৬ সালের নিয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি করে যারা চাকরি পেয়েছেন, সেই তালিকায় পড়েছেন প্রকৃত মেধাবী প্রার্থীরাও। সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করে চিহ্নিত না করেই সবার চাকরি বাতিল করে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
চাকরি হারানো শিক্ষকরা বলছেন, তারা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষা করলেও সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের বলি দেওয়া হয়েছে। মেহবুব মণ্ডল, ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের’ আহ্বায়ক, বলেন, “এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা—সরকারের ব্যর্থতা।”

পুলিশের লাঠিচার্জ ও নিন্দার ঝড়
চাকরি ফেরতের দাবিতে কলকাতায় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় এবং এক শিক্ষককে লাথি মারার ভিডিও প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, ‘হালকা বল প্রয়োগ’ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে তদন্তের মুখোমুখি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
শিক্ষা সংকটকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক দোষারোপ চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস দায় চাপাচ্ছে বিজেপি ও সিপিআইএমের ওপর। অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ সরকারের কাছেই সমাধান দাবি করছে।

শিক্ষকদের আশা
চাকরি হারানো শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, “আমরা যোগ্য, আমরা অন্যায়ের শিকার। রাজ্য সরকার চাইলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।” শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

একটি প্রজন্মের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে, সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে।

an adbox will go here