এবার সিরিয়াকে দখলে নিচ্ছে ইসরাইল: দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি। - দিগন্ত জার্নাল

এবার সিরিয়াকে দখলে নিচ্ছে ইসরাইল: দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সোমবার,১৪ এপ্রিল ২০২৫ || গাজার পর এবার সিরিয়ায় সরাসরি সামরিক দখলদারিত্ব শুরু করেছে ইসরাইল। বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ সিরিয়ায় একের পর এক হামলা ও ভূমি দখল চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সিরিয়ার অন্তত ১২ মাইল ভেতরে ঢুকে পড়েছে ইসরাইলি সেনারা এবং এখন পর্যন্ত নয়টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা

ইতিমধ্যে সড়ক, টেলিযোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে মনোনিবেশ করেছে দখলদার বাহিনী। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ সিরিয়ায় ‘অস্থায়ী’ উপস্থিতির নামে ইসরাইল এখন স্থায়ী দখলের কৌশল নিয়েছে।

স্থানীয়দের উচ্ছেদ ও নির্যাতনের অভিযোগ

কুনেইত্রা শহরের নিকটবর্তী রাসম আল-রাওয়াদি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আলী আল-আহমাদ জানান, “ইসরাইলি সেনারা আমাদের ঘরবাড়ি তল্লাশি করে, কিছু ঘর ধ্বংস করে দেয় এবং বহু পরিবারকে স্কুলে জড়ো করে আটকে রাখে।” গত চার মাস ধরে গ্রামটি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রায় ৩৫০ জনকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জাতীয় সংলাপের পরপরই আক্রমণ

সরকার পতনের পর সিরিয়ার প্রথম জাতীয় সংলাপ সম্মেলনের একদিন পর, ২৪ ফেব্রুয়ারি, দারা ও কুনেইত্রায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ওই সম্মেলনে সকল সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন।

গাছ কাটা ও জমি দখলের নিন্দা

দখলদার বাহিনীর বর্বরতায় স্থানীয়রা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আল-রাফিদ গ্রামের বাসিন্দা ওমর হানুন জানান, “আমাদের গ্রামের শত বছরের পুরোনো গাছগুলো কেটে ফেলেছে ইসরাইল। কেউ কাছাকাছি গেলেই গুলি করছে।” শেখ আবু নাসর বলেন, “আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না। অন্য কেউ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করলেও, আমরা আমাদের জমিতেই থাকব।”

দ্রুজ সম্প্রদায়ের ‘সহযোগিতা’র কৌশল

ইসরাইল এখন দক্ষিণ সিরিয়ার ধর্মীয় সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়ের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এক বিবৃতিতে জানান, “দ্রুজদের রক্ষা করতে আমরা প্রস্তুত।” যদিও এই ‘রক্ষা’র আড়ালে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা।

জনগণের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ শুরু

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দামেস্ক, দারা, খান আরনাবেহ, সুওয়াইদা ও কুনেইত্রার বহু গ্রাম ও শহরে স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। দ্রুজ সম্প্রদায়ের অনেকে ইসরাইলের প্রস্তাবিত ‘মানবিক সহায়তা’ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ইসরাইল এই আগ্রাসনকে ‘মানবিকতা’র মোড়কে চালাতে চায়, অথচ বাস্তবে এটি একটি সংঘবদ্ধ দখলদার অভিযানের অংশ। সিরিয়ার জনগণকে বাস্তুচ্যুত করে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দখল নিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

an adbox will go here