রূপগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে কারখানা, শীতলক্ষ্যায় দূষণ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়ায় সরকারি জমি ও খেলার মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে নিটিং, ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং কারখানা। কারখানাটি থেকে রাসায়নিক বর্জ্য ও রঙিন গরম পানি শীতলক্ষ্যা নদী, জলাশয় এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে ফেলা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিসিক জামদানি পল্লীর পূর্ব পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ বিঘা ৭ শতাংশ জমি ১৯৯৬ সালে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করা হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত জমির লিজ নবায়ন না হওয়ায় এটি ফাঁকা অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৩ সালে হাজী আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর সেখানে ইউনিফিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে একটি কারখানা গড়ে ওঠে, যা পরে নাম পরিবর্তন করে ট্রু ফেব্রিক্স লিমিটেড নামে পরিচিতি লাভ করে।
কারখানাটি ইটিপি প্ল্যান্ট থাকলেও তা ব্যবহার না করে বর্জ্য খোলা জায়গায় ও নদীতে ফেলে। এর ফলে নদী দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
তারাব পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো ফল মেলেনি। কারখানার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর দুদকেও অভিযোগ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কোনো অনুমতি নেই। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ দখলদাররা যত প্রভাবশালীই হোক, সরকারি জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১৯৯১-৯২ অর্থবছরে বিসিক নোয়াপাড়ায় জামদানি পল্লী স্থাপন করা হয়। শিল্পীদের জন্য ৪০০ প্লট বরাদ্দের পাশাপাশি জলাশয়, খেলার মাঠ এবং স্কুলের জন্য জায়গা রাখা হয়। এখন সেই জলাশয়সহ জমি দখল হয়ে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।