চেতনার আশ্রয়ে ফাঁটল ✒️ - দিগন্ত জার্নাল

চেতনার আশ্রয়ে ফাঁটল ✒️

দিগন্ত জার্নাল সাহিত্য | গল্পো
তাসমিয়া তহুরা✒️

বুধবার, (৩০ এপ্রিল ২০২৫) বাড়ির উঠোনে বেলি ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে ছিল একসময়। সেই ঘরেই এখন জমে থাকে নিঃশব্দতা—যেন ঘরের দেয়ালগুলোও হাঁ করে অপেক্ষা করে, কেউ এসে আবার আদর করে ছুঁয়ে দেবে কি না। সম্পর্কগুলো আজকাল আর আগের মতো থাকে না। সময়ের সাথে তারা বদলায়, বিবর্ণ হয়, কখনো বা নিজেদের ভারেই ভেঙে পড়ে।

নাহিদা জানে, কেবল ঘটনাই জীবন গড়ে তোলে না—ঘটনার ফাঁকফোকরে জমে থাকা নীরবতাগুলোই আসল চিত্র আঁকে। সে দেখে, তার পরিবারেও সম্পর্কের ছায়ায় জন্ম নিচ্ছে ফাটল। মা চুপ, বাবা মুখ ঘুরিয়ে আছেন। ভাইয়ের চোখে জমে ওঠে জিজ্ঞাসা, আর ঘরের বাতাসে বাজে অভিমানের নিঃশব্দ শোকসংবাদ।

কারো মুখে কিছু নেই, তবু চারপাশে যেন কোনো তৃতীয় সত্তা নিঃশব্দে ঘুরে বেড়ায়—একটা অদেখা মন, যে কারো নয়, তবু সবার মাঝে থেকেও সবার বাইরে। সে কিছু বলে না, কিন্তু বোঝে, গভীরভাবে বোঝে—কে কতটা আহত, কে কতটা লুকিয়ে রাখছে নিজের ক্ষত। সেই তৃতীয় মন—নাহিদার ভেতরে জন্ম নেওয়া এক সচেতন সত্তা।

বাড়ির চৌকাঠে দাঁড়িয়ে সে ভাবে, এতদিন যে হাসিগুলো ছিল, তারা কোথায় চলে গেল? সম্পর্কগুলো কেন এমন অনাহূত দূরত্বে ছিন্ন হলো? প্রতিটি উত্তর খুঁজতে খুঁজতে সে উপলব্ধি করে—মতভেদ শুধু মানুষকে আলাদা করে না, ভেঙে দেয় বিশ্বাসের ভিত, চিন্তার কাঠামোও।

আর সেই ভাঙনের ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকে একসময়ের আত্মিক চেতনা—যেটা ছিল আশ্রয়, ছিল হৃদয়ের উষ্ণতা। আজ তা শুধু স্মৃতি। স্মৃতির মধ্যেও কোনো দিন কান্নার শব্দ নেই, আছে কেবল স্তব্ধতা।

তবু নাহিদা জানে, সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। কোনো কোনো ভাঙন মানুষকে গড়ে তোলে নতুনভাবে। সে বিশ্বাস করে—চেতনার আশ্রয় আবারও জেগে উঠবে, যদি কেউ অন্তর থেকে তা আঁকড়ে ধরে।

এক রাতে, ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে সে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “আমি আলো হারাইনি, কেবল অন্ধকার চিনছি এখন। ফাটল যে আশ্রয়কে ভেঙেছে, সেই আশ্রয়ই একদিন আমার চেতনাকে দীপ্ত করবে।”

এটাই নাহিদার গল্প নয় শুধু—এটা সেইসব মনের গল্প, যেগুলো কথা বলতে না পারলেও বোঝে… গভীরভাবে বোঝে।

an adbox will go here