জুলাই অভ্যুত্থনে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা মাস্টারমাইন্ড: তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই অভ্যুত্থনে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা মাস্টারমাইন্ড: তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মঙ্গলবার, (১৩ মে ২০২৫)

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যাকাণ্ড এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছে। এছাড়া অভ্যুত্থানকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও তদন্ত প্রতিবেদনে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

তাজুল ইসলাম জানান, তদন্ত শুরুর ৬ মাস ২৮ দিনের মধ্যে প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও সুপিরিয়র কমান্ডার হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এতে পাঁচটি মূল অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৪ জুলাই একটি প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘নাতিপুতি’ বলেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারে উসকে দেন। এরপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই জুলাই আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হেলিকপ্টার, ড্রোন ও এপিসিসহ ভারী মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালায়। হত্যার নির্দেশ, আহত করার পরিকল্পনা এবং সহায়তার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টেলিফোন কনভারসেশনের রেকর্ডও।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, বাকি তিনটি অভিযোগ নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দমন করতে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, আহত করা হয় ২৫ হাজারেরও বেশি। শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, এবং মৃতদেহ ও জীবিতদের একত্র করে আগুনে পোড়ানোর মতো নৃশংসতা চালানো হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া বা চিকিৎসা দিতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপাতে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী ক্যাডারদের মাধ্যমে, যার নির্দেশনাও ছিল শেখ হাসিনার।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনবার বাড়ানো হয়, সর্বশেষ ২০ এপ্রিল সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত ২৪ জুন পর্যন্ত সময় দেন। তবে তার আগেই প্রতিবেদন দাখিল করল তদন্ত সংস্থা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি ২০১৩ সালের মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। এসব মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। বর্তমানে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন।

২২টি মিস কেসে ১৪১ জন আসামি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৩৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২২টি মিস কেস গৃহীত হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৪ জন গ্রেফতার এবং ৮৭ জন পলাতক। আসামিদের মধ্যে ৭০ জন বেসামরিক, ৬২ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৯ জন সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হবে। এরপর শুরু হবে ট্রায়াল প্রক্রিয়া। গ্রেফতার আসামিদের আইনজীবীরা প্রস্তুতির সময় পাবেন এবং প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্টের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও বিস্তারিত বা সংযুক্ত প্রতিবেদন চাইলে জানাতে পারেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জুলাই ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যাকাণ্ড এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছে। এছাড়া অভ্যুত্থানকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও তদন্ত প্রতিবেদনে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

তাজুল ইসলাম জানান, তদন্ত শুরুর ৬ মাস ২৮ দিনের মধ্যে প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও সুপিরিয়র কমান্ডার হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এতে পাঁচটি মূল অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৪ জুলাই একটি প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘নাতিপুতি’ বলেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারে উসকে দেন। এরপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ায়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই জুলাই আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হেলিকপ্টার, ড্রোন ও এপিসিসহ ভারী মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালায়। হত্যার নির্দেশ, আহত করার পরিকল্পনা এবং সহায়তার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টেলিফোন কনভারসেশনের রেকর্ডও।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, বাকি তিনটি অভিযোগ নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দমন করতে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, আহত করা হয় ২৫ হাজারেরও বেশি। শিশু হত্যা, নারী নির্যাতন, এবং মৃতদেহ ও জীবিতদের একত্র করে আগুনে পোড়ানোর মতো নৃশংসতা চালানো হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া বা চিকিৎসা দিতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপাতে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী ক্যাডারদের মাধ্যমে, যার নির্দেশনাও ছিল শেখ হাসিনার।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনবার বাড়ানো হয়, সর্বশেষ ২০ এপ্রিল সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত ২৪ জুন পর্যন্ত সময় দেন। তবে তার আগেই প্রতিবেদন দাখিল করল তদন্ত সংস্থা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি ২০১৩ সালের মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। এসব মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। বর্তমানে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন।

২২টি মিস কেসে ১৪১ জন আসামি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৩৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২২টি মিস কেস গৃহীত হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৪ জন গ্রেফতার এবং ৮৭ জন পলাতক। আসামিদের মধ্যে ৭০ জন বেসামরিক, ৬২ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৯ জন সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হবে। এরপর শুরু হবে ট্রায়াল প্রক্রিয়া। গ্রেফতার আসামিদের আইনজীবীরা প্রস্তুতির সময় পাবেন এবং প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্টের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

an adbox will go here