'অসাম্যের শ্বাপদ সংকুল জঙ্গলে সাম্যের মৃত্যু’ শিরোনামে প্রতিক্রিয়া দিলেন মাসকোয়াথ আহসান - দিগন্ত জার্নাল

‘অসাম্যের শ্বাপদ সংকুল জঙ্গলে সাম্যের মৃত্যু’ শিরোনামে প্রতিক্রিয়া দিলেন মাসকোয়াথ আহসান

অনলাইন ডেস্ক : দিগন্ত জার্নাল

বুধবার, (১৪ মে ২০২৫):ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘অসাম্যের শ্বাপদ সংকুল জঙ্গলে সাম্যের মৃত্যু’ শিরোনামে আবেগঘন বিশ্লেষণমূলক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন লেখক ও বিশ্লেষক মাসকোয়াথ আহসান। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই দীর্ঘ পোস্টে সাম্য হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা দিক বিশ্লেষণ করেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, সাম্যর পিতাকে মৃতদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখে মনে হয়েছে, পিতার বুক খালি হবার বিষাদসিন্ধুই যেন আমাদের এই জনপদের প্রতিচ্ছবি। সাম্যর মাকে তিনি দেখেছেন সব হারানো মানুষের বিপন্ন বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। মাসকোয়াথ আহসান সাম্যকে একজন কোমল ও প্রতিবাদী ছাত্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “শ্বাপদ সংকুল অরণ্যে একটু কোমল মানুষ মানেই অবধারিত মৃত্যু।”

তিনি জানান, সাম্য ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি মনে করেন, পুরো ঘটনার মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

তার মতে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একপক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপে ব্যস্ত। কেউ অধ্যাপক সামিনা লুতফাকে দায়ী করছেন, কেউ দায় দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। এমনকি সাম্যকে হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও চলছে নানা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি।

মাসকোয়াথ আহসান বলেন, “এই ভিসি একজন ভালো ছাত্র, সততার সঙ্গে একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন, তাই অনেকেই তা সহ্য করতে পারছেন না। কেউ চাইছেন বিএনপির পক্ষপাতদুষ্ট ভিসি, আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চায়।”

তিনি উল্লেখ করেন, পরিমিত গাঁজা বা মারিজুয়ানা অনেক দেশে স্বীকৃত রিক্রিয়েশনাল পদার্থ হলেও, এখানে সংকট এলেই গাঁজা-পানকে ইস্যু বানানো হয়। শিল্প-সংস্কৃতি ও চিন্তার স্বাধীনতা যারা চায় না, তারা চায় সব ছাত্র বিসিএস গাইড মুখস্থ করে কেরানি হোক।

তিনি দাবি করেন, সাম্য জুলাই বিপ্লবের একজন অগ্রণী সৈনিক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় সে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তাই হয়তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে তাকে।

পোস্টের শেষাংশে মাসকোয়াথ আহসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান, খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য পুলিশের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এই প্রতিবেদন মাসকোয়াথ আহসানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত লেখার আলোকে তৈরি।

an adbox will go here